প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অনুসন্ধানে পুলিশ কর্মীরা, তালিকায় নাম বাগদার পঞ্চায়েতের সুপারভাইজারের

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা,
১২ ডিসেম্বর: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এই প্রথম পুলিশকে দিয়ে অনুসন্ধানের কাজ চালানো হচ্ছে। আর তাতে বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়ছে। আর এমন পরিস্থিতি দেখে অবাক পুলিশ কর্মীরাও। খোদ উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার আষাঢ়ু পঞ্চায়েতের সুপারভাইজারের আবাস যোজনার তালিকায় নাম রয়েছে। এছাড়াও দোতলা বাড়িরল, দুইটি ট্রাকের মালিক, প্রচুর জমি জায়গা এমন পরিবারের নাম রয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা তালিকায়।

গ্রামাঞ্চলের দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারীদের মধ্যে মূলত যাদের স্থায়ী পাকা বাড়ি নেই, বিপজ্জনক ঘরে বসবাস করেন, সেইসব পরিবারের জন্যই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রকল্প ‘‌প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’। এমন দরিদ্র পরিবারগুলিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতেই সরকারের এই প্রকল্পের ভাবনা। এই প্রকল্পের আওতায় এনে সেইসব দরিদ্র পরিবারকে পাকা বাড়ি তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কারা এই প্রকল্পের উপভোক্তা হবেন, তা ঠিক করার জন্য একসময় একটি বিশেষ দায়িত্ব পালন করতো সরকার নির্ধারিত একটি সংস্থা।

কিন্তু ২০১১ সালের পর থেকে সেই সংস্থা এ ব্যাপারে আর কোনও ভূমিকা পালন করছে না। সেখানে শেষবারের মতো ২০১৮ সালে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে একটি তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকা সম্প্রতি প্রকাশিত হতেই সেখানে অনেক গড়মিল ধরা পরে। রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে রাজ্য জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশে এব্যাপারে তালিকা ধরে ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে স্থানীয় থানা। আর এই অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে কিছুটা অবাক হচ্ছেন পুলিশ আধিকারিকেরা। দেখা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপকদের তালিকায় নাম রয়েছে, বাগদা থানার আষাঢ়ু পঞ্চায়েতের সুপারভাইজার চন্দন মণ্ডল। এছাড়া এমন মানুষের বাস্তবে দোতলা বাড়ি রয়েছে।

জানা গেছে, বাগদা ব্লকের হেলেঞ্চা গ্রাম পঞ্চায়েতের পারকৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামে অনুসন্ধানে যান বাগদা থানার ওসি উৎপল সাহা। সেখানে বুলু কীর্তনীয়া নামে এক মহিলার নাম উপভোক্তা হিসেবে তালিকায় রয়েছে। অথচ তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, তাঁদের দোতলা বাড়ি। সঙ্গে মোটর বাইক, ফ্রিজ ইত্যাদি অনেক কিছুই রয়েছে। সুপারভাইজার চন্দন মণ্ডল বলেন, সে মা বাবার সঙ্গে থাকেন, যদি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় তাহলে তাঁর স্ত্রী সন্তান নিয়ে রাস্তার পাশে গাছ তলায় বসবাস করতে হবে। তদন্ত করে মনে হয় ঘর পাওয়ার যোগ্য নয়, তাহলে যেন তার ঘর বাদ দেওয়া হয়। যদিও বিজেপির দাবি তৃণমূলের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তার নাম নথিভুক্ত করেছেন চন্দন মন্ডল।

এব্যাপারে আর এক উপভোক্তা বুলু কীর্তনীয়ার বক্তব্য, কিভাবে তার নাম তালিকাভুক্ত হল, তা তিনি জানেন না। শুধু বুলু কীর্তনীয়াই নয়, প্রতিদিন অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে গড়ে ১০ থেকে ১৫ জনের নাম পাওয়া যাচ্ছে, যারা এই প্রকল্পের আয়তায় আসতে পারেন না। জানা গেছে, বাগদা ব্লকে এই প্রকল্পের জন্য নাম নথিভুক্ত হয়েছে ২৩ হাজার মানুষের। আগামী শনিবারের মধ্যে এই পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুসন্ধানের কাজ সারতে হবে পুলিশকে।

এব্যাপারে এক পঞ্চায়েত প্রধান জানান, অনেক ক্ষেত্রে এমন হচ্ছে যে, এই তালিকা যখন তৈরি হয়েছে, তখন ওই উপভোক্তার কাঁচা বাড়ি ছিল। বর্তমানে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতির বদল ঘটায় তিনি নিজেই পাকা বাড়ি তৈরি করে নিয়েছেন। এই ধরনের উপভোক্তাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার বলেন, এই সরকার এমনিতেই চোরের দল, তা প্রমাণ হয়েছে, ছোট থেকে বড় সব নেতারা চোর। গরিব মানুষের নাম কেটে বেছে বেছে তৃণমূল নেতা কর্মীদের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে নতুন করে নামের তালিকা তৈরি করেছে পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর স্বামী। আমরা এটা হতে দেব না। প্রকৃত যারা পাওয়ার যগ্য তাঁদের এই প্রকল্পের ঘর দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *