পানিহাটি খুনের ঘটনার কিনারা করলো পুলিশ, ধৃত ১

আমাদের ভারতে, ব্যারাকপুর, ২৭ ডিসেম্বর: বড় সাফল্য পেল খড়দহ থানার পুলিশ। গত ২৬ ডিসেম্বর গিরিবালা ঘাট থেকে উদ্ধার হয় এক মৃতদেহ। মৃত ব্যক্তি পানিহাটির শ্মশান ঘাট সংলগ্ন অঞ্চলের বাসিন্দা বছর চল্লিশের শিবনাথ দাস। সেই খুনের ঘটনায় তদন্তে নেমে গভীর রাতে পানিহাটির হরদয়াল বসু রোড থেকে মূল অভিযুক্ত বিপ্লব দাসকে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ। ধৃতকে জেরা করেই তদন্তকারীদের হাতে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশ সূত্রে খবর, বিপ্লব দাস এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে যে সে খুনের ঘটনার সাথে জড়িত।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, রবিবার দুপুরে পানিহাটির গিরিবালা ঘাটে গঙ্গার পাড় থেকে উদ্ধার হয় বিশ্বনাথ দাসের পচাগলা দেহ। মৃত বিশ্বনাথ দাস আগরপাড়া জুট মিলের কর্মী ছিলেন। শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। অভিযোগ, শুক্রবার দিন তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গিরিবালা ঘাটে বসে তাঁর সঙ্গে মদ্যপান করে ধৃত বিপ্লব দাস। তারপর ভারী কিছু দিয়ে বিশ্বনাথ দাসের মাথার পিছনে আঘাত করে। আঘাতের চোটে বিশ্বনাথ দাসের মৃত্য হয়। এরপর অভিযুক্ত মৃত দেহ লোপাট করার উদ্যেশ্যে দেহ টানতে টানতে গঙ্গার পাড়ে নিয়ে যায়। তারপর গঙ্গা চরে দেহটি পুঁতে দিয়ে তার উপর মাটির প্রলেপ দিয়ে দেয় অভিযুক্ত। পুলিশি জেরায় এই খুনের কথা কবুল করেছে ধৃত। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, মদ্যপানের আসরেই বচসার সূত্রপাত হয়।

ধৃতকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, বিশ্বনাথ দাসের খুনের আগে আরও একটি খুনে অভিযুক্ত এই বিপ্লব দাস। সেটাও ঠিক একই কায়দায় করেছে সে এমনটাই অনুমান পুলিশের।

পুলিশি সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ১৯ ডিসেম্বর পানিহাটির গিরিবালা ঘাটে উদ্ধার হয়েছিল আরও একটি দেহ। মৃতের নাম শেখর পাল। নারায়ণপুর থানা এলাকার অন্তর্গত কাটাখালের বাসিন্দা ছিলেন বছর পঁয়তাল্লিশের শেখর পাল। একইরকমভাবে সেদিনও গঙ্গা পাড়ের চরের মাটি খুঁড়ে পাওয়া গিয়েছিল দেহটি। তাই পুলিশের অনুমান এই অভিযুক্তই একই কায়দায় দুটি হত্যা করেছে। তবে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে ব্যারাকপুর আদালতে তুলে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *