রাকেশ সিংয়ের বাড়িতে পুলিশ সিআইএসএফ বচসা, গ্রেফতার ৩

রাজেন রায়, কলকাতা, ২৩ ফেব্রুয়ারি: নির্বাচনের আগে একদিকে কয়লা কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীকে জেরা সিবিআইয়ের, অপরদিকে মাদক মামলায় বিজেপি নেতার বাড়িতে কলকাতা পুলিশ অভিযান, সব মিলিয়ে রীতিমতো সরগরম রাজ্য রাজনীতি। কোকেন কাণ্ডে বিজেপি নেত্রী পামেলা গোস্বামী গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। কিন্তু পুলিশ পামেলাকে প্রভাবিত করে তার নাম বলানোর চেষ্টা করছে, এমন অভিযোগ সোমবারই চিঠি লিখে পুলিশ কমিশনারকে জানিয়েছিলেন রাকেশ সিং। সোমবার রাতেই এই মামলার তদন্তভার নিউ আলিপুর থানা থেকে নেয় লালবাজার গোয়েন্দা বিভাগ। এবার রাকেশ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারে ডেকে পাঠানো হলে তিনি দিল্লিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশকে। যদিও সেই সময় হাইকোর্টে ছিলেন তিনি।

তবে রাকেশ সিং’কে না পেয়ে বিন্দুমাত্র দমে যায়নি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, রাকেশ সিং কে তলবে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ না দেওয়ায় ওই নার্কোটিক্স মামলার তদন্তেই ব়াকেশ সিংয়ের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাতে হাজির হয় পুলিশ। সেই সময় দরজায় রাকেশের পরিবারের সদস্যরা প্রধানত বিজেপি নেতার ছেলে পুলিশ আধিকারিকদের বাধা দেন। তল্লাশির জন্য প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে বলেন। কিন্তু অভিযোগ, তল্লাশির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ দেখাতে পারেনি পুলিশ আধিকারিকরা। এর পরে তারা সরাসরি লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। রাকেশ সিংয়ের বাড়িতে ঢোকার সময় তাদের বাধা দেয় রাকেশ সিংয়ের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন সিআইএসএফ জওয়ানরা। দরজা বন্ধ করে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে সিআইএসএফের বিরুদ্ধে। যার ফলে দু-পক্ষের বাদানুবাদে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

দরজা না খুললে সিআইএসএফের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও বলা হয় পুলিসের তরফে। পুলিশকে তাদের কাজে বাধাদানের অভিযোগে রাকেশ সিংয়ের বাড়ির তিনজন পরিচারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরপরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্তারা সরাসরি লালবাজারের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরপরই ৭ জন পুলিশ রাকেশ সিংয়ের বাড়ির ভিতরে ঢোকেন। বেশ কিছুক্ষণ তল্লাশির পর তারা ফিরে যান।

রাকেশ গোয়েন্দাদের কাছে শর্ত রেখেছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনি যখন লালবাজারে যাবেন, তখন তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ানরাও তাঁর সঙ্গে থাকবেন। তাঁর সঙ্গে আইনজীবী থাকবেন বলেও শর্ত রাখেন রাকেশ। সেই মর্মে মঙ্গলবারই কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন রাকেশ। অথচ তিনি যখন কাজের জন্য দিল্লি যাবেন বলে যে সময় লালবাজারে গেলেন না রাকেশ, সে সময় হাইকোর্টে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

এদিন শুনানি চলাকালীন তাঁর আইনজীবী আদালতে তুলে ধরেন, রাকেশের বিরুদ্ধে ২৬টি মামলা রয়েছে। কিন্তু রাজ্যের আইনজীবী সওয়াল করেন, ২৬টি নয়, তার আগে থেকেই রাকেশের বিরুদ্ধে মোট ৫৬টি মামলা চলছে। যার রায় বেরোলে রাকেশের ১০ বছর জেল হতে পারে। এমন এক ব্যক্তিকে কীভাবে কেবলমাত্র নোটিস পাঠানো যায়? কেন তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন না? সে সব প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের আইনজীবী। এরপরই রাকেশের আর্জি খারিজ করে দেন হাইকোর্টের আইনজীবী সব্যসাচী দত্ত। তাঁর পর্যবেক্ষণ, রাকেশকে এই তদন্তে সহযোগিতা করতেই হবে। এই নোটিশের ওপর কোনও স্থগিতাদেশ জারি করেননি বিচারপতি। আদালতের রায়ে মাদক কাণ্ডের মামলায় রাকেশের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে লালবাজারের পথে কোনও বাধা থাকায় এরপরই রাকেশের বাড়িতে সটান গিয়ে হাজির হন গোয়েন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *