আমাদের ভারত, ২১ অক্টোবর: খেলা হবে স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এই স্লোগানকে বরাবর কটাক্ষ করেছে বিজেপি সহ বিরোধীরা। গতকাল মাঝরাতে যখন ধর্নামঞ্চ কার্যত রাজ্য পুলিশ ভেঙে নস্যাৎ করেছে তখন সেই ঘটনাকে দিদির নতুন খেলা হিসাবে বর্ণনা করে সরব হয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
করুণাময়ী থেকে জোর করে ২০১৪র টেট উত্তীর্ণ চাকরি প্রার্থীদের অনশন আন্দোলন ভেঙে দেওয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। টুইটারে তিনি লিখেছেন, “পাশবিক বল প্রয়োগ করে ২০১৪- টেট পাশ করা চাকরিপ্রার্থীদের আটক করল পুলিশ। এটাই দিদির নতুন খেলা। ন্যায্য দাবিতে চাকরি প্রার্থীরা প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন। সরকারের তরফে তাদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ে বিরুদ্ধে তাদের কন্ঠ রোধ করা হলো।”
বৃহস্পতিবার তুঙ্গে উঠেছিল পরিস্থিতি। দুপুরে সুকান্ত মজুমদার নিজেও গিয়েছিলেন ধর্নামঞ্চে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত হতেই একের পর এক প্রিজন ভ্যান এসে পৌছে ছিলো করুণাময়ীতে, মাইকিং শুরু করেছিল পুলিশ। আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছিল আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে জমায়েত তুলতে সক্রিয়তা বাড়াচ্ছিল পুলিশ। শেষমেষ রাত ১২ টা ১৬ মিনিট নাগাদ শুরু হয় পুলিশি অপারেশন। আন্দোলনকারীদের টেনে হিঁচড়ে তুলে দেয় পুলিশ। আন্দোলনকারীদের প্রথমে বেআইনি ঘোষণা করে দুমিনিট সময় দেওয়া হয়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা না সরতে কার্যত তাদের টেনে হিঁচড়ে তুলে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করে সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “ভয়ানক দৃশ্য! চাকরিপ্রার্থীদের উপর নির্মম অত্যাচার। গোটা বাংলা দেখছে। আর যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের লেডি হিটলার মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ লেলিয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের ধর্না মঞ্চ ভাঙলেন, ঠিক একই ভাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে এই ফ্যাসিস্ট দুর্নীতি পরায়ন সরকারকে চেয়ার থেকে ছুঁড়ে ফেলবে। সময় ঘনিয়ে এলেই স্বৈরাচারীদের বলপ্রয়োগ বৃদ্ধি পায়। বাংলার মানুষ সবকিছুর সাক্ষী থাকলো।”
এর আগে তিনি বলেছিলেন, “চাকরিপ্রার্থী যারা অনশনে বসে আছেন তাদের কাছে কেষ্টর একটি ভিডিও তৈরি করে নিয়ে আসুন, যে কিভাবে কোটিপতি হওয়া যায়। তাহলে আর কেউ চাকরি চাইবে না। টিউশন পরিয়ে মাসে কয়েক হাজার টাকা ইনকাম করা যায় কিন্তু এক মন্ত্রীর মেয়ে টিউশন পরিয়ে ব্যাংকে তিন কোটি টাকা রোজগার করেছে কি ভাবে? কি ট্যালেন্টড।”
আন্দোলনকারী চাকরি প্রার্থীদের অভিযোগ, “আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার মাঝে রাতের অন্ধকারে পুলিশ কেন তুলে দিল? মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে রাতের অন্ধকারে মহিলা চাকরিপ্রার্থীদের এভাবে জোর করে তুলে দেওয়া হয়?” রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এমনই একের পর এক প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তীব্র কটাক্ষের সুরে বলেছেন, “আমাদের ন্যায্য চাকরি ঘুষের টাকায় বিক্রি করে দিয়ে পুলিশ দিয়ে জোর করে মধ্যরাতে তুলে দিচ্ছে আমাদের।”

