ঝালদায় কংগ্রেসের কালা দিবসের মিছিলে পুলিশের বাধায় ধুন্ধুমার কাণ্ড, প্রতিবাদে বুধবার ১২ ঘন্টা বনধ কংগ্রেসের

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৫ এপ্রিল: ঝালদায় কংগ্রেসের কালা দিবসের মিছিলে পুলিশের বাধায় ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল। নিহত তপন কান্দুর স্ত্রী কাউনন্সিলর পূর্ণিমা কান্দু সহ মহিলাদের উপর পুলিশের শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগে বুধবার ১২ ঘণ্টার ঝালদা বনধ ডাকল কংগ্রেস। দলীয় কালা দিবস কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া কংগ্রেস জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন, “পুলিশ যেভাবে আমাদের মিছিল আটকে বাধা দেয় তা ঝালদায় নজির বিহীন। পুলিশের নিগ্রহে মহিলারা পর্যন্ত পার পাননি। পূর্ণিমাকে পুলিশ শারীরিক নিগ্রহ করে। এর তীব্র নিন্দা করছি। এর প্রতিবাদে ঝালদায় ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দিই।”

কংগ্রেসের স্থানীয় প্রাক্তন বিধায়ক পুলিশের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা এখানেই থেমে থাকব না। আজকের এই পুলিশের ন্যাক্কার জনক ঘটনার আইনী ব্যবস্থার দ্বারস্থ হব।”

আজ ঝালদা পুরসভায় বোর্ড গঠনের সভার আয়োজন করে মহকুমা প্রশাসন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দিনটিকে কালা দিবস হিসাবে পালন করার ডাক দেওয়া হয়। ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ঝালদায় একটি প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল বের করে কংগ্রেস। সেখানে কংগ্রেসের নির্বাচিত কাউনন্সিলর নিহত তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু সামনের সারিতে ছিলেন। ছিলেন অন্যান্য নেতৃত্ব ও মহিলা কর্মীরা। কালো পতাকা হাতে, কালো ব্যাজ পরে মিছিলে অংশ নেন প্রচুর কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থক। মিছিল পুরসভার প্রবেশ পথের কাছে আসতেই পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন তাঁরা। তখনই পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ হয় বিক্ষোভকারীদের। পুলিশের বাধা সরানোর সময় অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে পুরসভার প্রবেশ পথ। পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয়। এর মধ্যেই কাউনন্সিলর তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু ও বেশ কিছু কংগ্রেস কর্মী পৌরসভার কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। সভা না করার জন্য প্রতিবাদ জানাতে থাকেন তাঁরা। এক কংগ্রেস কর্মী উত্তেজিত হয়ে চেয়ার আছড়ে প্রতিবাদ জানান। তার পরই সভায় অংশ না নিয়ে কংগ্রেস কাউনন্সিলর পূর্ণিমা কান্দু পৌর কার্যালয় ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরে স্থানীয় মহকুমাশাসকের উপস্থিতিতে নীতি মেনে বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। কংগ্রেসের কোনও কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন না। পুরপ্রধান হলেন সুরেশ আগরওয়াল এবং উপ পুরপ্রধান হন সুদীপ কর্মকার।

এখানে উল্লেখ্য, ১২ আসন বিশিষ্ট ঝালদা পুরসভায় ৫ টি কংগ্রেস, ৫ টি তৃণমূল এবং দুইজন নির্দল প্রার্থী জয়ী হন। এই পরিস্থিতিতে ফলাফলের দিনে শীলা চ্যাটার্জি নামে নির্দল প্রার্থীকে দলীয় পতাকা হাতে তুলে দেয় তৃণমূল। ১৩ মার্চ কংগ্রেস কাউনন্সিলর তপন কান্দু খুন হন। ফলে কংগ্রেসের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪। আজ বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা নির্দল কাউনন্সিলর সোমনাথ কর্মকার সুরেশ আগরওয়ালকে পুরপ্রধান হিসেবে সমর্থন করায় তৃণমূলের বোর্ড গড়ার পথ আরও সহজ হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *