পুরুলিয়ায় বাবা ও ছেলের খুনের ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৬ জুলাই: পুরুলিয়ার মফস্বল থানার কানালি গ্রামে বাবা ও ছেলের খুনের ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের আজ পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে তাদের পুলিশ হেফাজত হয়। ধৃত তিনজনের মধ্যে দীনেশ পাশির বাড়ি ঝাড়খণ্ডের বোকারোর বিরসা এলাকায়। মান্ডিল ভিবলোরের বাড়ি পশ্চিম বর্ধমানের কুলটির বাসুদেবপুর এবং মানয় বেদের বাড়ি পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুরে। ধৃতদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার এস সিলভামুরগণ সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানান, “সার্বিক প্রচেষ্টায় এই সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। তবে, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।”

গত ৯ জুলাই রাতে পুরুলিয়ার মফস্বল থানার কানালি গ্রামের কাছে খুন হন মদন চন্দ্র পাণ্ডে ও তাঁর ছোট ছেলে কানাই লাল পাণ্ডে। সিআইডির তত্ত্বাবধানে পাঁচজনের দল পুরুলিয়া জেলা পুলিশকে তদন্তে সহায়তা করে সাত দিনের মাথায় জোড়া খুনের কিনারা করল।

গত শনিবার ঘটনার দিন আইমুণ্ডির কাছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজে তিনজনের ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটি ছিল ওই দিনের রাত ১০টা ১৫ মিনিটের। খুনের ঘটনা ঘটেছিল সাড়ে আটটা থেকে ন’টার মধ্যে বলেই সিআইডির অনুমান। তারপর তাদের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের কাছাকাছি এলাকা থেকে সিআইডি ও পুরুলিয়া জেলা পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার রাতে তাদের মফস্বল থানায় নিয়ে আসা হয়। শনিবার তাদের পুরুলিয়া আদালতে তোলা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

চুরুলিয়া এলাকায় ধৃতরা বানজারা সম্প্রদায়ের মতো ক্যাম্প করে থাকে। ধৃতরা সাপ নিয়ে খেলা দেখানোর সঙ্গেও যুক্ত। খুনের ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকেই তারা চাষমোড়ে ছিল। রীতিমতো রেইকি করে তাদের ধারণা ছিল, ম্যানেজার বাড়ি যাওয়ার পথে টাকা নিয়ে যান। পেট্রোল পাম্প ম্যানেজার, তার ছেলে ওই পাম্পের কর্মচারী ছাড়াও কানালি গ্রামের বাসিন্দা ব্যাঙ্ক মিত্র দীপেন মাহাতোও তাদের টার্গেটে ছিল। দীপেন মাহাতোকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলেও সে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের টার্গেট মিস হয়ে যায়। রেইকি করে ধৃতরা জেনেছিল, দীপেনের কাছে সব সময় একটি ল্যাপটপ ও প্রায় ৫০ হাজার মতো টাকা থাকত। এই খুনের অপারেশনের পর একজন লুট হওয়া মোটরবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। বাকিরা পরের দিন অর্থাৎ ১০ জুলাই বাসে করে পুরুলিয়া এলাকা ছেড়ে আসানসোলে যায়। এই খুনের অপারেশন নিয়ে ভীষণই উদ্বিগ্ন ছিল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *