ছবি: গ্রেফতারের পর পুলিশের গাড়িতে সুকান্ত মজুমদা।
আমাদের ভারত, কলকাতা, ১১ জুন: ডোমজুড় যাওয়ার পথে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে লালবাজারে।
আজ সকালেই তাঁর ডোমজুড় যাওয়ার কথা ছিল। বিজেপির পার্টি অফিস ভাঙ্গচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তিনি সেখানে যাবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু সকালে নিউটাউনের বাড়ি থেকে বেরোনোর মুখেই পুলিশ এসে জানায় তাকে হাউস অ্যারেস্ট করা হয়েছে, তিনি সেখানে যেতে পারবেন না।
সুকান্ত মজুমদার পুলিশের কাছে জানতে চান যে কোনও অর্ডার আছে কিনা কিন্তু পুলিশ তাকে দেখাতে পারেননি। তখন তিনি বলেন, তিনি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করছেন না কারণ তিনি একাই যাবেন। কিন্তু পুলিশ তাকে যেতে দিতে রাজি হয় না। এরপর তিনি বাড়িতেই বসে থাকেন। একসময় তিনি বলেন যে করেই হোক হাওড়ায় যাবেন। এরপরই উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তিনি গেটের বাইরে বেরিয়ে পড়েন। সেখানে ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী। তারা সুকান্ত মজুমদারকে বাধা দেয় সেই সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। সুকান্ত মজুমদার জানান, তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি একটু হলেই পড়ে যেতেন। পড়ে গিয়ে চোট পেতেন। কিন্তু তার রক্ষীরা থাকায় তিনি রক্ষা পেয়ে গেছেন। সেই সময় বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের উপরে পুলিশ লাঠি চালিয়েছে বলে অভিযোগ। ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মানষ দে সহ অনেকেই লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন।

পুলিশের বাধা ভেঙ্গে সুকান্ত মজুমদার গাড়িতে করে হাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু জানতে পারেন সামনেই পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। তাই চিংড়িঘাটা থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে লেকটাউনের দিকে যান। ভেবেছিলেন সেই দিক দিয়ে হাওড়া যাবেন কিন্তু হঠাৎ আবার নিউটাউন হয়ে তিনি পার্ক সার্কাস হেয়ে রওনা হন।
এসএসকেএমের সামনে পুলিশ তাঁর গাড়ি আটকায়। তিনি গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করেন। সেই সময় পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে উপস্থিত বিজেপি নেতা কর্মীদের হাতাহাতি হয়। একসময় গাড়িতে উঠে সুকান্ত মজুমদার হাওড়ার দিকে রওনা দেন। কিন্তু হাওড়া ব্রিজ থেকে নামার পর টোলপ্লাজার মুখে তাঁকে পুলিশ আটকে আটকে দেয়। তিনি গাড়ি থেকে নেমে পড়েন।
পুলিশ জানায় তাঁকে যেতে দেওয়া হবে না। এরপরই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার জন্য পুলিশ সুকান্ত মজুমদারকে গ্রেফতার করে এবং তাকে লালবাজারের দিকে নিয়ে যায়।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, আমাদের আটকানোর জন্য পুলিশ যে তৎপরতা দেখাচ্ছে এই তৎপরতা যদি দু’দিন আগে পুলিশ করতো তাহলে মানুষকে ভুগতে হতো না।

ছবি: লালবাজারে পুলিশের প্রস্তুতি।

