খড়্গপুরে অসুস্থ বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

জে মাহাতো, মেদিনীপুর, ২৮ জানুয়ারি: ২০১৮ সালের একটি মামলায় বিজেপির এক অসুস্থ কর্মী চরণজিৎ সিংকে গ্রেপ্তার করল খড়গপুর থানার পুলিশl ঘটনায় শাসকদলকে রাজনৈতিক ফায়দা এনে দেওয়ার প্রচেষ্টা বলে তোপ বিজেপির।

একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সদ্য চিকিৎসা করে ভিন রাজ্য থেকে ফিরেছেন ওই বিজেপি কর্মীl দিলীপ ঘোষের সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল এই বিজেপি কর্মীকে। ওই সময় দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছিল পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনার এমনই এক মামলায় যুক্ত করা হয়েছিল চরণজিৎকে। ৬ মাস আগে খড়গপুর শহরে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার শিকার হন চরণজিৎ। একটি চারচাকা গাড়ি ধাক্কা মারে চরণজিৎয়ের বাইককে। সেই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। তাঁর হাত ও পায়ের হাড় গুঁড়িয়ে যায়। আঘাত লাগে মাথাতেও। প্রায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১৫ দিন আগে তিনি চেন্নাই থেকে ফিরেছেন চিকিৎসা করিয়ে। তাঁর হাতে, পায়ে এখনও ইস্পাতের চাকা, রড ইত্যাদি লাগানো রয়েছে। তিনি সুস্থভাবে হাঁটতে পারেননা, একটি হাত এখনও কাজ করে না। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ নিতে হয়।

শুক্রবার তাঁর বাড়ি ২ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দনগর থেকে তুলে আনে খড়গপুর শহর পুলিশ। তারপর তাঁকে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়ে হাজির করা হয় খড়গপুর আদালতে। চরণজিতের ভাই বলজিৎ সিং দাবি করেছেন, হাসপাতালকে দিয়ে তাঁর দাদার সুস্থতার সার্টিফিকেট করিয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল পুলিশ। কিন্তু বিচারক তা নামঞ্জুর করে ১দিনের জেল হেফাজত দিয়েছেন। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তুষার মুখার্জি জানিয়েছেন, পুরভোটের দামামা বাজার আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে পুলিশ। আর তাই শুরু হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান।

বিজেপির অভিযোগ ২নম্বর ওয়ার্ড ও সংলগ্ন এলাকায় গত পৌরসভায় জিততে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল সংখ্যালঘু হলেও একে একে সমস্ত বিরোধী কাউন্সিলরদের মামলা, পুলিশি হুমকি ও প্রচুর টাকা দিয়ে কেনার চেষ্টা করেছিল। ২নম্বর ওয়ার্ডে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। বিজেপির একটি অংশের দাবি, এবার ওই চরণজিৎকেই পৌরসভা নির্বাচনে বিজেপির মুখ হিসাবে তুলে আনছিলেন তাঁরা। তাই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

 তুষার মুখার্জি বলেছেন, গতবার বোর্ড দখলের জন্য ভোটের পরে তৃণমূল পুলিশকে কাজে লাগিয়েছিল আর এবার এখন থেকেই কাজে লাগাতে শুরু করেছে। পুলিশের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সাংসদ ও বিধায়কদের মামলাগুলি পর্যালোচনা, শুনানি ইত্যাদি করার জন্য যে বিশেষ আদালত গঠিত হয়েছে সেই আদালতের পরওয়ানা বা ওয়ারেন্টের জেরেই এই গ্রেফতার। এখানে পুলিশ কোনও স্বতঃপ্রণোদিত গ্রেফতার করেনি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *