জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ২১ এপ্রিল: “পুলিশের কাজ শুধু অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা নয়। তদন্ত করে আদালতে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ দিয়ে অভিযুক্তদের দোষী সাবস্ত করা। পুলিশ সেই কাজ করছে না। যার ফলে কামদুনি সহ রাজ্যের কোনো ধর্ষণ কান্ডে কারও শাস্তি হয়নি।” বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে দলীয় কর্মীর বাবা খুনের ঘটনায় পরিবারে দেখা করতে এসে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। ঘটনায় পুলিশের কাজে সন্তুষ্ট না হলে আদালতে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল রাতে দুর্গাপুর স্টেশন সংলগ্ন শ্রমিক নগর এলাকায় এক ফুচকা বিক্রেতাকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ওঠে। নিহতের নাম রামপ্রসাদ সরকার (৫১)। দুর্গাপুর ৪৩ নং ওয়ার্ডের সুকান্তপল্লীর বাসিন্দা এবং বিজেপির ২৫৪ নং বুথের সভাপতি রাজা সরকারের বাবা। ঘটনার পরই সরগরম রাজনৈতিক ময়দান। ঘটনায় জানাগেছে, ওইদিন পুরাতন বাড়ি শ্রমিক নগর এলাকায় পূর্ব পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন রামপ্রসাদ। ওই সময় বাড়ির সামনে খাটিয়াতে শুয়ে থাকা এক অসুস্থ বৃদ্ধার বুকের ওপর বসে পড়ে বলে অভিযোগ। আর তারপরই বৃদ্ধর ছেলে ও তার দলবল দুর্গাপুর স্টেশন বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন বাঁকুড়া মোড়ের কাছ থেকে রামপ্রসাদকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে রামপ্রসাদকে তার বাড়িতে নিয়ে যায় পরিচিতরা। কিন্তু রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রামপ্রসাদ সরকারকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরদিন মৃত্যু হয় রামপ্রসাদের।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, “তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। এদিকে ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকনগর এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গেছে, ধৃতরা তৃণমূলকর্মী। আর তারপরই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করে।
যদিও বুধবার নিহতের পরিবারে স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব দেখা করেন। বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যায়। এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে কড়া তোপ দাগেন। এদিন তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যতই শিল্পের চেষ্টা করুন, রাজ্য আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি এরকম অবস্থা হলে কিছু হবে না।”
এদিন দুর্গাপুরে দলীয় বুথ সভাপতির বাবা খুনের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বৃহত্তর ষড়যন্ত্র আছে। ৩-৪ জনে খুন করেনি। আরও অনেকে জড়িত। ধৃতদের কল রেকর্ডিং দেখা উচিত। ধৃতরা তৃণমূলের কাউন্সিলরের ঘনিষ্ট। কাউন্সিলরের কল রেকর্ড পাওয়া গেছে। বড় চক্রান্ত আছে।” তিনি আরও বলেন, “নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। পাঁজর ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। লান্স, অন্ডকোষ, হাত-মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এত নৃশংসতা তালিবানরা করে।” তিনি আরও বলেন,” পরিবারটা শুধু বিজেপি করে বলে এভাবে খুন। তার ভাই, ছেলেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর বেশ কয়েকমাস রামপ্রসাদ সরকারকে ফুচকার ঠেলা গাড়ি লাগাতে দেওয়া হয়নি। ওই পরিবার যাতে বিজেপি করতে সাহস না পায় তারজন্য এরকমভাবে খুন করেছে।”
এদিন রাজ্যে পুলিশের কাজে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন,
“পুলিশের কাজ শুধু অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা নয়। তদন্ত করে আদালতে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ দিয়ে অভিযুক্তদের দোষী সাবস্ত করা পুলিশের কাজ। কিন্তু পুলিশ সেই কাজ করছে না। যার ফলে কামদুনি সহ রাজ্যের কোনো ধর্ষণ কান্ডে কারও শাস্তি হয়নি। কোনো অভিযুক্তের ফাঁসি হয়নি, কারও যাবজ্জীবন হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের কাজে সন্তুষ্ট না হলে আদালতে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানবো।”
অন্যদিকে দুর্গাপুর পুরসভার ৪১ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শিপুল সাহা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সিপিএম ও বিজেপি রাজনীতির রঙ লাগাচ্ছে। অভিযোগ ভিত্তিহীন। ঘটনাটি নিন্দনীয়। পুলিশ তদন্ত করুক। দোষীদের কঠিনতম শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
যদিও ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে রিমান্ডে নিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

