জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ৭ জুন: কয়লা চুরিতে বাধা দিতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হল পুলিশ ও সিআইএসএফ জওয়ান। ভাঙ্গচুর করা হয় পুলিশের গাড়িতে। সোমবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ইসিএলের পাণ্ডবেশ্বর এরিয়ার সোনপুর বাজারি সিএইচপি খনি এলাকায়। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, কোলিয়ারি এলাকায় মাফিয়ারাজ কয়লা চোরদের স্বর্গরাজ্য দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সোমবার রাত্রে আবারও সেই অভিযোগ প্রমাণ করল।
পাণ্ডবেশ্বর থানার ইসিএলের সোনপুর বাজারি কোলিয়ারি সিএইচপি। এদিন রাত এগারোটা নাগাদ কয়লা চুরি করতে ঢোকে একদল দুষ্কৃতী। মালগাড়ির ওয়াগান থেকে তারা বেপরওয়াভাবে কয়লা লুট করছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সিআইএসএফ জওয়ানেরা। কয়লা চুরিতে বাধা দিতে গেলে মারমুখী হয়ে ওঠে দুষ্কৃতীরা। অতর্কিতে চড়াও হয় জাওয়ানদের ওপর। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছায় পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ। দুষ্কৃতীরা পুলিশের ওপরও চড়াও হয়। ভাঙ্গচুর করে পুলিশ ও সিআইএসএফের গাড়িতে। ঘটনায় জখম হয় এক সিআইএসএফ জওয়ান। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে বহুলার ছোড়া রিজেওনাল হসপিটালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে স্থানান্তরিত করা হয় ইসিএলের কাল্লা হাসপাতালে। আহত জওয়ানের অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার সকালে ইসিএল সংস্থার পক্ষ থেকে পাণ্ডবেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই ইসিএলের বাঁকোলা কোলিয়ারিতে কয়লা চুরিতে বাধা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয় সংস্থার এক নিরাপত্তারক্ষী। দুষ্কৃতির মারে ওই নিরাপত্তারক্ষীর মাথা ফেটে যায়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অণ্ডালের শঙ্করপুর খোলামুখ কোলিয়ারিতে আক্রান্ত হয় রামবদন যাদব নামে এক ইসিএল কর্মী। একের পর এক কয়লা চোরদের হাতে নিরাপত্তারক্ষীরা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা খনি অঞ্চলে।
আসানসোল-দুর্গাপুর ডিসি পূর্ব অভিষেক গুপ্তা জানান,
“অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।”

