প্লাস্টিক চালের আতঙ্ক! তপনে অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার ঘেরাও করে বিক্ষোভ বাসিন্দাদের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১২ ফেব্রুয়ারি: অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার থেকে প্লাস্টিক চাল বিলির অভিযোগে তুমুল উত্তেজনা তপনে। আতঙ্ক এলাকায়। অসুস্থ খুদে পড়ুয়া ও গর্ভবতী মহিলারা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি তপনের গোফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবিন্দপুর এলাকায়। শনিবার বিকেলে এমনই অভিযোগ তুলে আইসিডিএস সেন্টার ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বাসিন্দারা। আটকে রাখা হয় সেন্টারের দিদিমণি ও সহায়িকাকেও। যদিও পরে ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তপন থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই সেন্টার থেকে চলছিল এমন প্লাস্টিকের চাল বিলি। যা খেতেই পেটের যন্ত্রণা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু ও গর্ভবতী মহিলারা।

জানা যায়, তপন ব্লকের গোফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গোবিন্দপুরের ৬৪২ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারটি। যেখানে প্রায় ৩৮ জন খুদে পড়ুয়ার পাশাপাশি রয়েছে বেশকিছু গর্ভবতী মহিলারাও। সেন্টারটি পরিচালনার জন্য রয়েছেন একজন দিদিমণি ও একজন সহায়িকা। যে সেন্টার থেকেই এদিন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বিলি করা হয়েছিল ওই প্লাস্টিকের চাল বলে অভিযোগ। অন্য চালের সাথে মেশানো অবস্থায় ওই প্লাস্টিকের চালগুলি লক্ষ্য করেন বাসিন্দারা। যেগুলি সেদ্ধ না হবার পাশাপাশি ভাঙ্গছে না বলে অভিযোগ। উলটে আগুনের সংস্পর্শে আসতেই তা গলছে বলেও অভিযোগ। যে ঘটনা সামনে আসতেই এদিন সেন্টারের দিদিমণি ও সহায়িকাকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এর আগেও বেশ কয়েকবার একই চাল বিলি করা হয়েছে এই সেন্টার থেকে। যা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাড়ির শিশুরা। এদিন সেন্টার থেকে দেওয়া চালের মধ্যে ফের প্লাস্টিকের চাল লক্ষ্য করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জিতা খাতুন, আলতাবানু খাতুন ও বাপ্পা মন্ডলরা বলেন, চালের সাথে মেশানো রয়েছে ওই প্লাস্টিকের চালগুলি। অন্য চাল সেদ্ধ হলেও সেগুলো হচ্ছে না, উলটে শক্ত সেই চালগুলি আগুনে পুড়ছে
প্লাস্টিকের আকারে। আর যা খেয়েই তাদের শিশুরা পেটের যন্ত্রণায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই ঘটনার
পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চান তারা।

অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের দিদিমণি মণিকাঞ্চন হোড় বলেন, বিলি করা চালে প্লাস্টিকের চাল রয়েছে এমনই অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা। বিষয়টি সুপারভাইজারকে জানিয়েছেন তিনি।

সুপারভাইজার সাহানাজ সরকার বলেন, অদ্ভুত সেই চাল দেখে তিনি নিজেও অবাক হয়েছেন। অন্য চালের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, যা মেশানো রয়েছে। বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তপন ব্লকের সিডিপিও সায়ন মন্ডল জানিয়েছেন, এইরকম একটি অভিযোগ তিনি শুনেছেন। চালটি খাদ্যদপ্তর থেকে তাদের কাছে পাঠানো হয়। ব্লকের ৭১৫ টি সেন্টারে কোথাও এর আগে কখনও এমন অভিযোগ আসেনি। তবে ওই চালটি দেখে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে এবং তারপরেই এর সঠিক কারণ জানানো সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *