স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৬ ফেব্রুয়ারি: অন্যান্য পৌরসভার সঙ্গে শান্তিপুর পৌরসভা নির্বাচনে ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করেছে প্রতিটি রাজনৈতিক দল। শান্তিপুর পৌরসভার মোট ২৪ টি ওয়ার্ড রয়েছে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামীর বাবা প্রশান্ত গোস্বামী। ওই ওয়ার্ডের কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন তরুণ দত্ত। বিগত দিনে ঐ ওয়ার্ডে প্রার্থী হতেন অজয় দে। প্রথমে তিনি কংগ্রেস দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কংগ্রেস থেকে বহুবার তিনি বিধায়ক এবং কাউন্সিলর হয়েছেন। পরবর্তীকালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। কয়েক মাস আগে কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তার। এবারের পৌর নির্বাচনে তার ছবি নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস প্রার্থী তরুণ দত্ত তাঁর রাজনৈতিক ব্যানারে অজয় দে’র ছবি ব্যবহার করেছেন। তরুণ দত্তের দাবি, তিনি অজয় দে’কে বরাবরই রাজনৈতিক গুরু হিসেবে দেখেন। তার হাত ধরেই তিনি জীবনে রাজনৈতিক আঙিনায় প্রবেশ করেছেন। সেই কারণেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে ও অজয় দে’র মূর্তিতে মাল্যদান করেন এবং গুরু হিসেবে তার ছবি নিজের রাজনৈতিক প্রচারের ব্যানারে রেখেছেন। যদিও পুরোটাই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন বলে দাবি করেন ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী প্রশান্ত গোস্বামী। তিনি বলেন, কখনোই অজয় দে তার রাজনৈতিক গুরু ছিল না। বরং আমি অজয় দে’কে রাজনৈতিক গুরু হিসেবে মানি। এটা পুরোটাই নিজেদের স্বার্থে অজয় দা’কে ব্যবহার করছে। আর অজয় দের মৃত্যুর আগে যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিল সেই কারণে এটা পুরোপুরি নির্বাচনের বিধি ভঙ্গ। সেই কারণে আমি পুরোটাই লিখিতভাবে কমিশনকে জানিয়েছি।

এর পাশাপাশি শান্তিপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামী বলেন, রাজনৈতিক প্রচারে কখনো অন্য দলের সঙ্গে জড়িত কোনো মানুষকে অন্য রাজনৈতিক দলের কোনো প্রার্থী ব্যবহার করতে পারে না। ব্যবহার করলেও তাঁর অনুমতি নিতে হবে কমিশনের কাছ থেকে এটাই নিয়ম। এটা পুরোপুরি নির্বাচনের বিধি ভঙ্গ। যদিও এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এখনো কোনো নোটিশ পায়নি কংগ্রেস প্রার্থী।

