আমাদের ভারত, ২ মার্চ: চড়চড়িয়ে বাড়ছে পেট্রোপণ্যের দাম। সেঞ্চুরি হাঁকাচ্ছে পেট্রোলের দাম, রান্নার গ্যাসের দাম তিনমাসে ২২৫ টাকা বেড়েছে। নাভিশ্বাস উঠেছে মধ্যবিত্তের। কিন্তু সামনে পাঁচ রাজ্যের ভোট। বিরোধীরা এটাকে বড় ইস্যু করে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছে। ফলে আর দেরি না করে সরকারের তরফেও পেট্রপন্যের দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার খবর মিলেছে। সূত্রের খবর কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক পেট্রোল ডিজেলের শুল্ক কমানোর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।
কেন্দ্রীয় অফিসারদের সূত্রে খবর, এবার কমতে পারে তেলের দাম। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পেট্রোল ডিজেল শুল্ক কমানোর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। কিভাবে শুল্ক কমানো যায় তা নিয়ে কিছু তেল কোম্পানি, রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও চালাচ্ছে অর্থমন্ত্রক। শুল্ক বা কর কমালে স্বাভাবিকভাবে তেলের দাম কিছুটা কমবে। স্বস্তি পাবে আম জনতা।
পরিশোধিত তেলের গ্রাহকদের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় ভারত। দেশে পেট্রোলের ডিজেলের পাইকারি দরে ৬০% করের অন্তর্গত। করোনা মহামারীতে ধসে পড়া অর্থনীতিকে বাঁচাতে গত এক বছরে পেট্রোল ও ডিজেলের দুবার কর বাড়িয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে গেছে। আর বিরোধীরা পেট্রোপন্যের দাম বৃদ্ধিকে ইস্যুকে মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইছে। সে দিকে তাকিয়ে শুল্ক কমানোর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে কেন্দ্র বলে অনুমান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। চলতি মাসের মাঝামাঝি নাগাদ সরকারের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে।
সরকার চায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একটা স্থিতাবস্থায় আসার পরে পেট্রোল-ডিজেলের শুল্ক কমুক। যাতে কিছুদিন পরে আবার শুল্ক না কমাতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক বৈঠকে বসবে সপ্তাহের শেষে। সম্ভবত কেন্দ্র সরকার ওই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আশা করা হচ্ছে সৌদি আরব যে তেল উৎপাদন কমিয়ে রেখেছিল তা প্রত্যাহার করবে এবং বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির নিরিখে তেলের উৎপাদন ও যোগান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে তেলের দাম কমে একটা স্থিতাবস্থায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

