অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১০ জুন: দক্ষিণ কলকাতার শ্বাসবায়ু রবীন্দ্র সরোবর নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতের শরনাপন্ন হলেন পরিবেশবাদী সমীর বসু। এ ব্যাপারে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন সোমেন্দ্রমোহন ঘোষ-সহ সুপরিচিত কিছু পরিবেশবাদী।
জাতীয় পরিবেশ আদালতে সমীরবাবু জানিয়েছেন, “রবীন্দ্র সরোবর বেশ কিছুকাল ধরেই অনেকের চর্চার কেন্দ্র। তা সে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট বা ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হোক বা ধর্মীয় বা সামাজিক আচার ব্যবহার হোক। বহুবার এই সরোবর পরিবেশবাদীদের আবেদনের মাধ্যমে আদালতের দোরগোড়ায় গিয়েছে। আদালত তার বিচক্ষণ পর্যবেক্ষণে এই ‘জাতীয় সরোবর‘-এর চৌহদ্দিতে সমস্ত প্রকার সামাজিক অনুষ্ঠানের ভাবনা ও আয়োজন বন্ধ রাখার আদেশ দেন। এটি কিন্তু মূল আবেদনের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছিল।
জাতীয় পরিবেশ আদালত এই আদেশ জারি করার আগে লেকের ক্লাবগুলিকেও ডেকে পাঠায় এবং তাদের মতামত ও মামলাকারীর বক্তব্য শোনার পরেই এই মূল্যবান ও সুচিন্তিত আদেশ জারি করেন।
কেএমডিএ এই আদেশের ভিত্তিতে সরোবরের বিভিন্ন স্থানে নোটিশ জারি করে। এরপর সরোবর সন্নিহিত স্টেডিয়ামেও ক্রিকেট ও ফুটবল লীগ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
রবীন্দ্র সরোবর শহরের মধ্যে জীববৈচিত্র্য ও সবুজের একটি আশ্চর্য উদাহরণ। কলকাতার বেশ কয়েকজন আইনজ্ঞ এবং পরিবেশবিদের মতামত অনুযায়ী আদালতের নির্দেশ অনুসারে এই হ্রদের জলে রোয়িং বন্ধ করে খেলাগুলোকে অন্যত্র সুবিধাজনক স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।
কিছু রোয়িং বিশেষজ্ঞদের মতে যেভাবে এই ক্রীড়া এখন আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে গেছে সেখানে আন্তর্জাতিক মানের দীর্ঘ ও অবাধ জলতল খুঁজে পেতে হবে। এই সংরক্ষিত রবীন্দ্রসরোবর আর কোনমতেই রোয়িংয়ের জন্য আদর্শস্থান নয়। এখানে রোয়িং অনুশীলন এবং প্রতিযোগিতা আর কোনও মতেই বাঞ্ছনীয় নয়। একদিকে তা যেমন পরিবেশ পরিপন্থী, অপরদিকে তা খেলোয়াড়দের উন্নতির পক্ষেও অন্তরায়।
রোয়িং এর মত জনপ্রিয় ক্রীড়ার জন্য উপযুক্ত স্থানের একটি সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সল্টলেক সেক্টর পাঁচের পেছনে সুদীর্ঘ একটি জলাশয়। এটি দৈর্ঘ্যে আন্তর্জাতিক মানের এবং অবাধ জলরাশি। বিষয়টিকে আমি সরোবরের তত্বাবধায়ক সংস্থা এবং জাতীয় পরিবেশ আদালতের গোচরে আনলাম।”

