আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৮ জুন: রবীন্দ্র সরোবরে রোইং ক্লাবগুলোয় জাতীয় স্তরের প্রশিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হল কেএমডিএ’কে। এই সঙ্গে সরোবরে উদ্ধারের প্রয়োজনে দূষণমুক্ত স্পিডবোটের কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাসখানেক আগে ঘটে যাওয়া দুই কিশোরের রোয়িং অনুশীলন করার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে মর্মান্তিক এবং লেকের রোয়িং ইতিহাসের প্রথম মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছিল শহর। আবার নিরাপদে রোইং শুরু করার ক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে কেএমডিএ’কে একটি রূপরেখা (এসওপি) তৈরি করে দেওয়া হয়। ঠিক হয়, এটি রোইং ক্লাবগুলি মানতে বাধ্য থাকবে। তাতে আবহাওয়ার সতর্কবার্তা, রোয়ারদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষিত বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ব্যবস্থার পাশাপাশি একজন করে স্বাস্থ্য অফিসার নিয়োগ করার ব্যবস্থা প্রতিটি ক্লাবকে নিতে হবে। তবেই ছাড়পত্র নিয়ে ক্লাবের রোয়িং অনুশীলন শুরু করা যাবে। এই রূপরেখায় জাতীয় স্তরের প্রশিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করতে বলা হয়েছে সরোবরের তদারককারী সংস্থা কেএমডিএ’কে।
পরিবেশবিদ এবং রবীন্দ্র সরোবর সংরক্ষণের অন্যতম আন্দোলনকারী সমীর বোস শনিবার এই প্রতিবেদককে জানান, “রোয়িং অনুশীলন করার সময় বোট উলটে জলে পড়ে যাওয়া একটি অতি স্বাভাবিক ঘটনা, এটি এই খেলাটির অঙ্গও বটে। রোয়ারদের এতেই অভ্যস্ত হতে হয়। কখনও বোট ধরে ভেসে থেকে বা সাঁতরে পাড়ে উঠে পড়ার শিক্ষা তার থাকেই। সম্প্রতি অনুশীলনে মৃত কিশোর দুটির অনভিজ্ঞতাই হয়ত তাদের আতঙ্কের মুখে ফেলে দিয়েছিল।”
সম্প্রতি নিরাপত্তার বিষয়ে কিছু মহড়া চালু হয়েছে রবীন্দ্র সরোবরে। এই প্রসঙ্গে সমীরবাবু এই প্রতিবেদককে বলেন, “এই সরোবরে পরপর চারবার ‘রিগাটা চ্যাম্পিয়ন্স কাপ জিতেছেন সৌমেন ঘোষ। যা এই কলকাতায় হয়ত আর কারোর সংগ্রহে নেই। তিনি জানিয়েছেন, এই জলক্রীড়া অন্যান্য খেলা থেকে অনেক আলাদা। এখানে একজন অভিজ্ঞ চ্যাম্পিয়ন রোয়ারই পারে ভাল প্রশিক্ষণ দিতে। সেক্ষেত্রে ক’জন বিজয়ী প্রশিক্ষক রয়েছে ক্লাবগুলিতে, তার খোঁজ নেওয়া দরকার। একজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক সর্বপ্রথম একজন শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তার খুঁটিনাটি শেখায় যাতে অন্য কারও সাহায্য ছাড়াই কী করে নিজে সুরক্ষিত থাকা যায়, এইসব। তাই এই উদ্ধার বোট এবং তা পেট্রোল,ডিজেল, ব্যাটারি চালিত এসব খুবই অপ্রয়োজনীয় আলোচনা।
লেকে চারটি ক্লাবের অসংখ্য বোট দু’বেলাই জলে নামে। এগুলোর মধ্যে অনেক বোট উলটে যায়, আবার সেটা ঠিকও করে নিতে হয়। তো এত উদ্ধার বোট কোথায় কোথায় ছুটবে? তাই এইসব উদ্ধার অভিযানে খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি বলেই তার মনে হয়। যেখানে কয়েকটি মূল নিয়ম মানলে দুর্ঘটনার অবকাশ নেই। সেখানে এত উদ্ধারকারীকে অলসভাবে বসিয়ে রাখা কতটা সম্ভব? তাছাড়া এতগুলো উদ্ধার বোট জলে যা দূষণ ছড়াবে, তাতে জাতীয় সরোবরটির পরিবেশের ভারসাম্য ‘ইকোসিস্টেম’ বিঘ্নিত হতে বাধ্য। যেটা সরোবরটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
এ ছাড়াও, এই খেলায় ‘কক্স’ বলে যিনি গলুইতে বসেন, তিনি কিন্তু প্রশিক্ষক বা বিশারদ নন। তিনি বোটের গতিপথকে সোজা রাখার কাজটি করেন। সব থেকে ভাল হয় যদি অনুশীলনের সময়ে প্রথম প্রথম প্রশিক্ষক কক্সের কাজটি করেন। কারণ ভুল স্ট্রোকের কারণেই বেশি বোট ওল্টায়। তাই গোড়াতেই গলদ দূর করতে হবে।”

