বিকৃত যৌন কামনা! নিজের গোপনাঙ্গে ধারালো সূচ ঢুকিয়ে বিপাকে প্রৌঢ়, অস্ত্রোপচারে উদ্ধার

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৯ এপ্রিল: বিকৃত যৌন কামনা। প্রস্রাব স্বাভাবিক করতে নিজের গোপনাঙ্গে সূচ ঢুকিয়ে বিপাকে প্রৌঢ়। গুরুতর জখম অবস্থায় দুর্গাপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে উদ্ধার হল সূচ। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিল্পাঞ্চলজুড়ে।

ঘটনায় জানাগেছে, আসানসোলের বাসিন্দা ওই প্রৌঢ়ের বয়স আনুমানিক ৪৯ বছর। দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই প্রৌঢ়ের পুরুষাঙ্গ থেকে বের করা হয় ধারালো দু-দুটি সূচ। গোপানাঙ্গে সূচ কেন? প্রশ্ন করতেই শিউরে ওঠার মত ঘটনার বিবরণ দিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, বুধবার নিজের বাড়িতে যৌন কামনায় পড়ে গোপনাঙ্গে  সূচ ঢুকিয়ে যৌনাচার করেন। যদিও আহত ওই প্রৌঢ় সাফাই দেন, প্রস্রাব স্বাভাবিক না হওয়ায় সূচ ঢুকিয়ে প্রস্বাবদ্বার পরিস্কার করছিলেন। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। সূচ দুটি ভেতরে আটকে যায়। আর তারপরই রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার তার যন্ত্রণা বাড়তে শুরু করে। পাশাপাশি প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তক্ষরণ। বেগতিক বুঝে তার বন্ধুদের মাধ্যমে চিকিৎসককে গোটা বিষয়টি বলেন। চিকিৎসক এক্সরে করার পরামর্শ দেন। এবং সেই রিপোর্ট দেখেই গোটা বিষয়টি জানতে পারে চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকদের দাবি, “এই রোগীর স্বাভাবিক প্রস্রাব না হওয়ায় এমন করার দাবি সম্পূর্ণ ভুল। মূত্রনালীতে তার কোনো সমস্যা নেই। তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত এবং বিকৃত যৌন লালসার জন্যই এমন কাজ করেছেন।” জানা গেছে, ওই ব্যক্তি অতীতেও এমন বিকৃত ঘটনা ঘটিয়েছে। তখন কোনও ধারালো জিনিস না হওয়ায় বরাত জোরে বিপদমুক্ত ছিলেন।

দুর্গাপুরের ইউরোলজিস্ট পার্থসারথি চন্দ্র এবিষয়ে বলেন, “ওই রোগীর মুত্রনালি থেকে দুটি ধারালো সূচ উদ্ধার হয়েছে। রোগীকে হাই এন্টিবায়োটিক দিয়ে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। যেহেতু সূচ দুটি জং ধরা তাই ইনফেকশনের আশঙ্কা রয়েছে। রোগীর পরিস্থিতি খুবই জটিল ছিল। কারণ, প্রথমে সূচ দুটি মূত্রনালীর মধ্যে ভাসমান অবস্থায় ছিল কিন্তু পরে সেগুলি মূত্রনালীতে গেঁথে যাওয়ায় রক্তক্ষরণ শুরু হয়। মানুষের মূত্রনালী খুবই সংকীর্ণ হয়। তাই সেটি কেটে কোনোরকম অস্ত্রোপচার হয় না। সৌভাগ্যবশত কোনো কাটা ছেঁড়া ছাড়াই সমান্তরালভাবে সূচ দুটি বার করা সম্ভব হয়েছে। না হলে ওই ব্যক্তির মূত্রনালীটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। রোগী এখন অনেকটাই সুস্থ আছে।” 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *