সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২২ ডিসেম্বর: রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দু’মাস ধরে জোটেনি বেতন। এবার বেতন না পেয়ে অনির্দিষ্ট কালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করলেন ঝালদা পৌরসভার স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীরা। বৃহস্পতিবার খুললই না ঝালদা পৌরসভার সদর দরজা।
গত অক্টোবর মাসে এখানে অনাস্থা আসার পর কে বসবেন পৌরপ্রধানের কুর্সিতে তাই নিয়ে আদালতে চলছে মামলা। যার নিস্পত্তি এখনো হয়নি। এরমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ মতো ঝালদা পুরসভার কাজকর্ম পরিচালনার দায়িত্বে এসেছেন জেলা শাসক। এনিয়ে কংগ্রেসের তরফ থেকে মামলা করা হলেও বৃহস্পতিবার কলকাতা উচ্চ আদালত জেলা শাসককে দেওয়া দায়িত্বই বহাল রেখেছেন বলে খবর। আদালতে ঝালদা পৌর সভার ভাগ্য ঝুলে থাকলেও, এর মধ্যেই নানা প্রশাসনিক জটিলতা শুরু হয়ে গেছে এখানে। নিজেদের বকেয়া বেতনের দাবিতে বুধবার পুরসভার নির্বাহী আধিকারিকের মাধ্যমে পুরুলিয়ার জেলাশাসককে’ উদেশ্যে করে পুরকর্মীরা চিঠি দেন। কর্মীদের দাবি লিখিতভাবেই তারা জানিয়ে দেন তাঁদের বকেয়া নভেম্বর মাসের বেতন না মেটানো হলে কর্মবিরতির পথে যাবেন তারা। সেই মতো সাফাই কর্মী থেকে সমস্ত স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীরা আর কাজে যোগ দেননি। এই কর্মবিরতির ফলে পুরসভার জরুরি পরিষেবায় যে এর প্রভাব পড়বে তা নিয়ে চিন্তিত শহরবাসী। বিশেষ করে প্রভাব পড়তে চলেছে নিকাশি, স্বাস্থ্য ও আলো পরিষেবা নিয়ে। পুর কর্মীদের পক্ষে সাফাই থেকে স্বাস্থ্য থেকে বিদ্যুত বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের একটাই বক্তব্য, দু’মাস ধরে বেতন না পাওয়ার ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন তারা। বাধ্য হয়েই তাই এই কর্মবিরতির।

এপ্রসঙ্গে অবশ্য জেলা প্রশাসন থেকে কোনো মন্তব্য করতে চাননি কোনো আধিকারিক। প্রধান করণিক গৌতম গোস্বামী শুধু বলেন, কাজ করার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু বেতন না পেয়ে কাজ করতে রাজি হচ্ছেন না কেউ।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ঝালদা পৌরসভায় রয়েছেন ৩৩ জন স্থায়ী ও ১৭০ জন অস্থায়ী কর্মচারী। ঝালদা পৌরসভা নিয়ে তারা আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন জানিয়ে এখানকার কংগ্রেস কাউন্সিলর তথা বিরোধী দলনেতা বিপ্লব কয়াল বলেন, নিয়ম মেনে তারা এই পৌরসভার পৌর প্রধান রূপে শীলা চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছেন। যা ৭-০ ভোটে অনুমোদিত হয়ে গেছে। রাজ্য সরকার বিভিন্ন ভাবে চক্রান্ত করে সংখ্যা গরিষ্ঠতা থাকা স্বত্বেও কংগ্রেসকে এখানে বোর্ড গঠন করতে দিচ্ছে না। বরং শীলাদেবীর কাউন্সিলর হিসেবে বৈধতা নিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কলকাতা উচ্চ আদালতে এই সব বিষয় নিয়ে শুনানি চলছে। বৃহস্পতিবার শুনানিতে জেলা শাসককেই কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর পরের দিনের শুনানির জন্য তারা অপেক্ষা করছেন বলে জানান বিপ্লব কয়াল।

