আমাদের ভারত, ২৪ নভেম্বর:
বুধবারে শপথ গ্রহণ করেছেন নতুন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। আর তারপর থেকেই রাজ্যপালকে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জানানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য বিজেপি। একই সঙ্গে আবারও ডিসেম্বরে বড় কিছু হবার কথা বললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায় ডিসেম্বরে রাজ্যের মানুষ আসল খেলা দেখতে পাবেন।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ডিসেম্বর মাসের গোড়াতেই আমরা রাজ্যপালের কাছে যাব। উনি সবই জানেন, তবু এই রাজ্যে কীভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে, কীভাবে দুর্নীতিকে প্রশাসনিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবো।”
নয়া রাজ্যপালের শপথের দিনই শাসক ও বিরোধীদের সংঘাতের ছবি দেখেছেন সি ভি আনন্দ বোস। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী তো সবসময় বলেন খেলা হবে। ডিসেম্বরে রাজ্যের মানুষ আসল খেলা দেখতে পাবেন। “তবে এই খেলা কিসের বা কেমন সে সম্পর্কে কিছু বলেননি সুকান্ত মজুমদার।
অন্যদিকে ইতিমধ্যেই নয়া রাজ্যপালের কাছে এক প্রস্থ অভিযোগ জমা করে এসেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সি ভি আনন্দ বোসের শপথে প্রথম সারিতে তাঁর আসন না থাকায় অনুপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু। এরপরই রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সে সময় সিভি আনন্দ বোসের হাতে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেন তিনি। রাজভবন থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, কোনও অভিযোগ জানাতে তিনি আসেননি। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে বই প্রকাশ করেছে সেটি রাজ্যপালকে উপহার দিয়েছে তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যপালকে তিনি বুঝিয়ে এসেছেন পশ্চিমবঙ্গে শাসকের আইন চলে, আইনের শাসন চলে না।
তবে শুভেন্দুর এই অভিযোগ করাতেই এই ক্ষান্ত হচ্ছে না বঙ্গ বিজেপি। সারা রাজ্য জুড়ে বিজেপির উপর কবে কোথায় শাসক দল আক্রমণ চালিয়েছে, বিধানসভা ভোট, পৌরসভা ভোট, পঞ্চায়েত ভোটের পর কেমন সন্ত্রাস হয়েছে সেই সংক্রান্ত অভিযোগের নথিও পাঠাবেন তারা। বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত বিজেপি কর্মীদের তালিকাও জমা দেবেন তারা। এছাড়া ধনখড়ের সঙ্গে নবান্নের নজিরবিহীন যে সংঘাত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সে সম্পর্কেও আনন্দকে অবগত করার পরিকল্পনা রয়েছে পদ্ম শিবিরের। বিভিন্ন দুর্নীতির রিপোর্টও জমা দেওয়ার কথা বঙ্গ পদ্মনেতারা। অভিযোগ জানানো হতে পারে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদল নিয়েও। এর জন্য ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজ্যপালের কাছে সময় চাইবেন বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব বলে খবর।

