“দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচারপতি গাঙ্গুলির লড়াইকে বাংলার মানুষ মনে রাখবে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দুর্ভাগ্যজনক হলেও তৃণমূল কিন্তু বাঁচবে না”, দাবি সুকান্তর

আমাদের ভারত, ২৮ এপ্রিল: বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলিকে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে দুর্ভাগ্যজনক বলেই ব্যাখ্যা করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, যে স্ফুলিঙ্গ বিচারপতি গাঙ্গুলি জ্বালিয়ে দিয়ে গেছেন তা নেভানো যাবে না। বাংলার মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচারপতি গাঙ্গুলির
এই লড়াইকে সারা জীবন মনে রাখবেন।

বিচারাধীন বিষয় নিয়ে একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলিকে নিয়োগ দুর্নীতি সমস্ত মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমকে তিনি ওই মামলাগুলিতে অন্য কোনো বিচারপতিকে আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

আর শীর্ষ আদালতের এই রায়কে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেই ব্যখ্যা করছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই রায়ের ফলে আশাহত হয়েছেন। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচারপতি গাঙ্গুলির এই লড়াইকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অত্যন্ত ভালোভাবে নিয়েছিলেন, ভালো চোখে দেখছিলেন। মানুষ চাইতেন যে তিনি এভাবে লড়াই করে যান দুর্নীতির বিরুদ্ধে।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায় আমাদের মানতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বলার এক্তিয়ার আমাদের নেই।” বিজেপি নেতার দাবি, বাংলার মানুষ সারা জীবন বিচারপতি গাঙ্গুলির দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই লড়াইকে মনে রাখবে।

এই রায়ের ফলে কি অভিযুক্তরা কিছুটা সুবিধা পেল? সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “বিচারপতি বা বিচারপতির বেঞ্চের উপর বিচার ব্যবস্থা খুব একটা নির্ভর করে বলে মনে করি না। নির্ভর করে আইনের উপরে। বিচারপতি আইনের প্রভিশন দেখেই সমস্ত রায় দেন। যে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা ভাবছেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম, তাদের হাফ ছেড়ে বাঁচার কোনো জায়গা নেই। জেলে যেতে হবে, অপেক্ষা করুন। দুদিন আগে অথবা দুদিন পরে। যারা অপরাধ করেছে তাদের প্রত্যেককে অপরাধের সাজা পেতে হবে।”

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে হতাশ হয়েছেন আন্দোলনকারীরাও। তারা এই রায়ের পুনর্বেচনার আর্জি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে এই নির্দেশকে তৃণমূল নিজেদের বড় জয় হিসেবেই দেখছে। তৃণমূল আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য টুইটারে লিখেছে, “ঢাকি সমেত বিসর্জন হয়ে গেল।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *