আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৬ এপ্রিল: “বাংলায় রাম রাজত্ব রয়েছে। মানুষ তার নিজের অধিকারে বাঁচে। বরং বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে আইনের শাসন নেই। মানুষ বিচার পান না। অভিযুক্তদের গুলি করে মেরে ফেলা হয়”। রবিবার সিউড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সিউড়িতে এসেছিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সভার পাল্টা সভা করতে এদিন সিউড়িতে আসেন ফিরহাদ হাকিম। উপস্থিত ছিলেন দুই সাংসদ অসিত মাল ও শতাব্দী রায় সহ সমস্ত বিধায়ক, কোর কমিটির সদস্য এবং জেলা নেতারা। সভার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উত্তর প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরব হন ফিরহাদ। যারা পশ্চিমবঙ্গে এসে আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথা বলেন তাদের নিজেদের রাজ্য উত্তরপ্রদেশে পুলিশের সামনে এনকাউন্টার হয়। দুষ্কৃতীদের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় না। তাদেরও এনকাউন্টার করে মারা হয়। বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙ্গা হয়। ওখানে বাহুবলির আইন চলে। আর উত্তপ্রদেশে যোগীজি বড় বাহুবলি। এটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। কিন্তু মানবাধিকার আধিকারিকরা দৌড়ে দৌড়ে এরাজ্যে আসেন। তাদের কাছে আবেদন করব উত্তরপ্রদেশে যান”।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে সিবিআই জেরা প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, “বিজেপি বিরোধী সমস্ত নেতা মন্ত্রীকে ডেকে পাঠানো হবে। যখন কোটি কোটি টাকা চুরি হয়ে যায় তারা বিদেশে পালিয়ে যায়। সেই মেহুল চস্কি হোক কিংবা নীরব মোদী। যারা দেশের মানুষের টাকা লুট করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয় না। চোরদের জলসায় নীরব কেন মোদী”?
তবে সিবিআইয়ের নজরে থাকা বীরভূমের নলহাটি ২ নম্বর ব্লক সভাপতি বিভাস চন্দ্র অধিকারীকে চেনেন না বলে সাফ জানান ফিরহাদ হাকিম। তবে মুর্শিদাবাদের বিধায়ককে সিবিআই জেরা নিয়ে ফিরহাদ বলেন, “আইন আইনের পথে চলবে। আমাকেও তো সিবিআই গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু আইনের মাধ্যমে আমরা জামিন পেয়েছি। আইনের প্রতি আমাদের আস্থা আছে”।

