অজুহাত দেখিয়ে পার পেয়ে যান স্নেহমঞ্জু’রা, প্রশাসনের তাই এই হাল

আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৪ আগস্ট: স্নেহমঞ্জু বসু। লেডি ব্রাবোর্ন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষিকা, ২০১৮-র অক্টোবর থেকে যাদবপুরের রেজিস্ট্রার। পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে গোটা রাজ্য যখন তোলপার, একবারও ঘটনাস্থলে আসেননি। সোমবার অফিসে এসে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। কেঁদে ফেলেন। বলেন, অসুস্থ হয়ে বাড়িতে ছিলাম। ফোন বন্ধ ছিল।

মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়াদ উত্তীর্ণ উপাচার্য ডঃ সাধন চক্রবর্তী তাঁর পুরনো কর্মস্থলে ফেরার আবেদন করেছেন। সেটি এগোচ্ছে না। আদতে তিনি যাদবপুরের দর্শনের অধ্যাপক। সূত্রের খবর, তাঁর আবেদন ফাইলবন্দী হয়ে আছে রেজিস্ট্রারের কাছে।
গত ২৮ জুলাই, শুক্রবার এই প্রতিবেদক এর কারণ জানতে ফোন করেছিলেন স্নেহমঞ্জু দেবীকে। সেদিনও তিন জবাব দিয়েছিলেন, “আমি জানি না। অসুস্থ। ছুটি নিয়েছি।“ সোমবারও তাঁর জবাব, “অসুস্থ, ছুটি নিয়েছি।“ এখানে প্রশ্ন উঠছে, তাঁর অসুস্থতার মাত্রা এবং ছুটি নেওয়ার প্রয়োজন যদি এতটাই হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই আধিকারিকের কাজ কে করবেন? কলেজের শিক্ষিকা যত ছুটি নেওয়ার সুযোগ পান, যাদবপুরের রেজিস্ট্রারের সেটা থাকবে না, এই সরল সত্যটা তিনি জানেন না?

যাদবপুরে এই মুহূর্তে কোনও উপাচার্য না থাকায় রেজিস্ট্রারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সোমবার তিনি ক্যাম্পাসে আসতেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এতদিন কোথায় ছিলেন? ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না কেন? সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েই কেঁদে ফেললেন রেজিস্ট্রার। বলেন, “মঙ্গলবারই মেডিক্যাল লিভ নিয়েছিলাম। চিকিৎসকের কথায় বিশ্রাম নিচ্ছিলাম বলেই ফোন বন্ধ ছিল।’’ এর পর স্নেহমঞ্জু দৃশ্যত কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘‘আমি মর্মাহত। কোনও মায়ের কোল খালি হোক চাই না।’’

কিন্তু যেখানে টিভি, সংবাদ মাধ্যম সর্বত্র যাদবপুর নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেখানে তিনি কি বিষয়টি জানতেও পারেননি? জবাবে স্নেহমঞ্জু দেবী বলেন, ‘‘হাঁটুর ব্যথা। তাই আসতে পারিনি। আজও কষ্ট করেই আসতে হয়েছে। তা ছাড়া আমার হাই প্রেসার। এই বিষয়গুলো একদম নিতে পারি না। আভ্যন্তরীণ কমিটিও তদন্ত করছে। পুলিশও তদন্ত করছে।”

রেজিস্ট্রারের দাবি, “আমি জয়েন্ট রেজিস্ট্রার সঞ্জয় গোপাল সরকারকে সমস্ত দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছিলাম। আমি বাড়ি থেকে ঘটনার সমস্ত রিপোর্ট নিয়েছি। এই ঘটনার পর যা যা করার সব রেজিস্ট্রারের অফিস থেকেই করা হয়েছে।“ প্রসঙ্গত, ডিনও এভাবে হোস্টেল সুপারের ওপর দায় এড়িয়ে সাধু সাজতে চাইছেন। আবার সুপারের দাবি, তিনি ওপরমহলে জানিয়েছিলেন।

এ সপ্তাহেই ইউজিসির তরফে প্রতিনিধি দল আসার কথা যাদবপুরে। তার আগে যাদবপুরের রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে তাঁর লেটার হেডে গোটা ঘটনাটির বিশদ রিপোর্ট জানাতে বলা হয়েছে। ইউজিসির তরফে সোমবারই এ ব্যাপারে ফোন আসে যাদবপুরের রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জুর কাছে। তার আগে সোমবারই অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটির বৈঠক বসে যাদবপুরের ঘটনাটি নিয়ে। আর সোমবারই যাদবপুরের রেজিস্ট্রার এসে পৌঁছন যাদবপুর ক্যাম্পাসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *