জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর, ২১ এপ্রিলঃ– ‘মানুষ ভয় পাচ্ছে না। পরিবর্তনের নির্বাচন চলছে। সাধারন মানুষ নির্বাচনকে হাতে নিয়ে নিয়েছে। খেলাতো নন্দীগ্রামে শেষ হয়ে গেছে। শোয়া সেঞ্চুরী হয়ে গেছে। বাকি তিনটা ফেজে ২০০ পার করব। জোরদার পদ্মে ছাপ। পুরোপুরি তৃণমূল সাফ।’ বুধবার দুর্গাপুর ও পান্ডবেশ্বরে এমনই বললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
আজ বুধবার দুর্গাপুরে প্রথমে এক হুনুমান মন্দিরে পুজো দেন দিলীপ ঘোষ। তারপর দুর্গাপুর পশ্চিমে বিজেপি প্রার্থী লক্ষন ঘড়ুইয়ের সমর্থনে রোড-শো করন। সেখান থেকে পান্ডবেশ্বরে দলীয় প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারীর রোড শো’তে অংশ নেন। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে গলসীর বিজেপি প্রার্থীর বাড়িতে ইট, পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় দুর্গাপুরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “এখনও পর্যন্ত ১৭ জন প্রার্থীর বাড়িতে আক্রমণ হয়েছে। তাতে বিজেপিকে আটকানো যাবে না। মানুষ ভয় পাচ্ছে না। পরিবর্তনের নির্বাচন চলছে। যারা হেরে গেছে, তারা হিংসা করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। এখন হাতের বাইরে চলে গেছে। সাধারন মানুষ নির্বাচনকে হাতে নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজ্যে হাসপাতাল আছে, ডাক্তার নেই। অসুস্থ হলে বাড়ি, জমি, গয়না বিক্রি করে চেন্নাই ছুটতে হয় চিকিৎসার জন্য। স্কুল আছে শিক্ষক নেই। পড়াশোনা হয় না। পানীয় জলের সঙ্কট। আমরা এজন্য পরিবর্তনের ডাক দিয়েছি। পরিবর্তন শুধু সরকার পরিবর্তন নয় মুখ্যমন্ত্রীর পরিবর্তন নয়। মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন করতে চাই। এখানের ভৌগলিক, সামাজিক, আর্থিক ও শিল্পের পরিবর্তন চাই। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এসবের পরিবর্তন হবে। হাসপাতাল থেকে খালি হাতে ফিরতে হবে না। চিকিৎসার জন্য ডাক্তার পাবেন, ওষুধ পাবেন। স্কুলে ছেলে মেয়েরা শিক্ষা পাবে। মানুষ মাথা উচু করে বাঁচতে চায়। চাকরি জন্য ছেলেদের হরিয়ানা, গুজরাট, মহারাষ্ট্রে যেতে হবে না। বাংলায় মাথা উচু করে থাকবে। এখানেই রোজগার পাবে। মা-বাবার সেবা করবে। ভোটে বোমা-বন্দুকের আওয়াজ হবে না। আপনারা নিজের ভোট নিজেই দিতে পারবেন। জনপ্রতিনিধি করবেন। আপনাদের কথা শুনবে। উন্নয়ন করবে।”
বিজেপি ক্ষমতায় এলে আইনশৃঙ্খলা কেমন হবে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “থানায় পুলিশ থাকবে। এফআইআর নেবে। সিভিকরা থানা চালাবে না। সিন্ডিকেট, কাটমানির সরকারের অবসান হবে। পুলিশের শিরদাঁড়া সোজা করে দেব। তাদের খাকি উর্দি আর অশোক চিহ্নের সম্মান ফিরিয়ে দেব। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকবে। উত্তর প্রদেশ, বিহারে জঙ্গলরাজ যদি শেষ হতে পারে, পশ্চিমবঙ্গেও শেষ করে দেবে।”
তিনি বলেন, “বাংলায় কাটমানি বন্ধ করতে হবে। প্রতিবছর এসএসসি, টেট পরীক্ষা হবে। মেয়েরা কেজি থেকে পিজি বিনামুল্যে শিক্ষা পাবে। তৃতীয় শ্রেণি থেকে বৃত্তি পাবে। ১৮ বছর হলে অ্যাকাউন্টে ২ লক্ষ টাকা সরকার জমা করবে। বাবা-মায়ের চিন্তা দূর হবে। মেয়েদের জন্য চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে। গরিব মানুষ বহুদিন ধরে পীড়িত, নিপিড়িত, অত্যাচারিত। তাদের সম্মান ফিরে আসবে। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে আসবে। বাংলার পুলিশ দিয়ে নির্বাচন হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগবে না। শান্তিপুর্ন ভোট হবে।”
এদিন তিনি তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, “১০ বছর সরকার চালানোর পর, ভাঙ্গা পা দেখিয়ে ভোট নিতে হচ্ছে। দিদিমনি বললেন খেলা হবে। ৬২ বছর বয়সে কি খেলা হবে? এখন বলছেন হুইল চেয়ারে ঠেলা হবে। হুইল চেয়ারে বসে খেলা হয় না। খেলা নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী শেষ করে দিয়েছে। এখন অতিরিক্ত সময় খেলা চলছে। গোল যা হবার হয়ে গেছে। শোয়া সেঞ্চুরী হয়ে গেছে। আর ৩ দফায় ২০০ পার করব। বিজেপি সরকার গড়বে। ২০১৯ ছিল, চুপচাপ পদ্মে ছাপ। এবার আর চুপচাপ নয়। জোরদার পদ্মে ছাপ, পুরোপুরি তৃণমূল সাফ। রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে বাংলায়।”

