জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৫ সেপ্টেম্বর: যত্রতত্র আবর্জনার পাহাড়। নোংরা আবর্জনায় মজে গেছে নিকাশী। সামান্য বৃষ্টিতে নিকাশীর নোংরা জল উপচে প্লাবিত হচ্ছে দোকান বাজার। তারওপরই সাত সকালে ফেলা হচ্ছে মাছের গাড়ির জল। তাতেই দূষিতর পাশাপাশি বেহাল হচ্ছে বাজারের রাস্তা। স্বচ্ছ ভারত মিশনের ডাস্টবিন বসলেও মুখ থুবড়ে সাফাই কাজ। ডাস্টবিন উপচে রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে নোংরা আবর্জনা। আর তাতেই নাকাল পথচলতি মানুষ। পুজোর মুখে বাজারে জমা জঞ্জালে ডেঙ্গু আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। এমনই দূরাবস্থার ছবি ধরা পড়ল বুদবুদ বাজারে।
বুদবুদ বাজার বহু পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী। একটা সময় মহকুমা সদর ছিল বুদবুদ। পুরনো জিটি রোড বাইপাস হওয়ার পর যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমেছে। তবে বাজারে নোংরা আবর্জনা যত্রতত্র পড়ে থাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ হয়ে উঠেছে। তার ওপর দেদার প্লাস্টিকের ব্যবহারে মজে গেছে নিকাশী। বাজারকে স্বচ্ছ রাখতে উদ্যোগী হয় বুদবুদ গ্রাম পঞ্চায়েত। গত বছর পুজোর আগে গোটা বুদবুদ বাজারে বসানো হয় ১০০ টি ডাস্টবিন। বুদবুদ বাজার, মানকর রোড, অ্যামুনিশেন রোড সহ সব জায়গায় বসানো হয়েছে ডাস্টবিন। প্রতিদিন নিয়ম করে সাফাই করার কাজের জন্য নোংরা ফেলার গাড়ির ব্যবস্থা হয়। ভর্তি হওয়া ডাস্টবিনের নোংরা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলার জন্য দুটো গাড়ির সঙ্গে দু’জন লোকও রাখা হয়। গোটা বাজারের পরিচ্ছন্নতা সাধাণর মানুষের নজর কেড়েছিল। মাস পাঁচেক সবই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু তারপর আচমকাই মুখ থুবড়ে পড়ে সাফাই কাজ। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি।

ডাস্টবিন থেকে উপচে পড়ছে নোংরা জঞ্জাল। রাস্তার ওপর ছড়িয়ে পড়ছে আবর্জনা। আর তাতেই নাকাল পথ চলতি স্কুল পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। জমা জঞ্জালের দুর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী। তার ওপর বাজারে নিকাশী মজে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে ব্যাবসায়ীরা। এক’শ দিনের কাজ বন্ধ থাকায় লাটে উঠেছে নিকাশী সাফাই। আর তাতেই সামন্য বৃষ্টিতে নিকাশীর নোংরা জল উপচে পড়ছে দোকান বাজারে। তার ওপর জনবহুল বাজারে রাস্তার ওপর নিত্যদিন অবাধে ফেলা হচ্ছে মাছের গাড়ির জল। তাতে দুর্গন্ধ যেমন ছড়াচ্ছে। তেমনই মজে যাওয়া নিকাশী থেকে উপচে পড়ছে নোংরা জল। বেহাল হচ্ছে রাস্তা। তার ওপর দূষিত হচ্ছে গোটা বাজার। নোংরা জমা জলের ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপের আতঙ্কে ভুগছে সাধারণ মানুষ। করোনা মহামারির আতঙ্ক এখনও চোখের পলকে। রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় সরকার স্বছতার জোর তৎপরতা শুরু করেছে। লাগাতার প্লাস্টিক ব্যাবহারের নিষেধাজ্ঞায় প্রচারের পাশাপাশি অভিযানও চলছে। তারপরও কতিপয় মানুষের অসচেতনতায় মশা, মাছি বাহিত রোগের বিপদ ডাকছে অচিরেই।
প্রশ্ন, নিত্য নতুন রোগের প্রকোপের পরও কবে সচেতন হবে সাধারণ মানুষ? বুদবুদ চেম্বার অব কমাসের সভাপতি রতন সাহা বলেন, “পুজোর আগে বাজারকে স্বচ্ছ রাখতে স্থানীয় পঞ্চায়েতের কাছে আবেদন করেছি। পঞ্চায়েত যদি সাড়া না দেয়, খুব শীঘ্রই ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে সাফাই কাজ শুরু করবে।”
বুদবুদ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রুদ্রপ্রসাদ কুন্ডু জানান, “বহুবার প্লাস্টিকের চা’য়ের কাপ, বিভিন্ন প্লাস্টিকের ব্যাবহার বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সচেতনতার অভাব। প্লাস্টিকের কাপ নিকাশীতে ফেলে দেওয়ায় মজে যাচ্ছে। তাই ডাস্টবিন বসানো হয়েছিল। নিয়মিত পরিস্কার করা হয়। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের দরুন, ডাম্পিং গ্রাউন্ডে যাওয়ার রাস্তাটি বন্ধ হয়ে পড়েছে। গাড়ি যাওয়ার সমস্যা। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। শীঘ্রই রাস্তাটি বের করে দেবে। এবং খুব শীঘ্রই বাজারে সাফাই কাজ শুরু করা হবে।”

