পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১০ এপ্রিল: দণ্ডি বিতর্ক! আদিবাসী মহিলাদের দিয়ে দণ্ডি কাটানোর ৭২ ঘন্টা পরেও গ্রেফতার হয়নি মহিলা তৃণমূল নেত্রী। প্রতিবাদে অবরুদ্ধ বালুরঘাট শহর। সোমবার এই ঘটনা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় এসটি কমিশনের দ্বারস্থ বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ। এদিন এই ঘটনা জানিয়ে একটি টুইটও করেছেন সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। যা নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন পড়েছে গোটা
রাজ্যজুড়ে।
উল্লেখ্য, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার অপরাধে তপনের গোফানগরের চার আদিবাসী মহিলাকে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা দণ্ডি কাটান দক্ষিণ দিনাজপুরের মহিলা তৃণমূল নেত্রী প্রদীপ্তা চক্রবর্তী। যদিও তাঁর দাবি, ওই মহিলারা নিজে থেকেই দণ্ডি কেটেছিল। যে ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুধুমাত্র রাজ্য নয়, গোটা দেশজুড়ে আলোড়ন পড়েছে। আদিবাসী মহিলাদের দিয়ে রাতের অন্ধকারে কেন এমন দণ্ডি কাটানো হল তা নিয়েই উঠেছিল প্রশ্ন। যে ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে ওই মহিলা
নেত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দলের সমস্ত পদ ও কাজ থেকে অব্যাহতি দেয় তৃণমূল। ঘটনার তিনদিন অতিক্রান্ত হলেও ওই মহিলার বিরুদ্ধে কেন এখনো পুলিশ উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি এর প্রতিবাদেই রাস্তায় নামে বিজেপি। গোটা রাজ্যজুড়ে থানা ঘেরাওয়ের পাশাপাশি এদিন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে বালুরঘাট শহরে প্রতিবাদ মিছিল করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বিক্ষোভ দেখানো হয় জেলাশাসকের অফিসের সামনেও। কয়েক হাজার কর্মী সমর্থকের উপস্থিতিতে ওই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে গোটা বালুরঘাট শহর।
যদিও প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল এদিনের এই কর্মসূচিকে ঘিরে। গোটা শহরজুড়ে মিছিল পরিক্রমার পর থানা মোড়ে বিক্ষোভ অবস্থান করে বিজেপি নেতৃত্বরা। যদিও সভাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ব্যস্ততার কারণে মিছিল শেষ করে বের হয়ে যান দিলীপ ঘোষ। এরপরে মঞ্চে উঠেই আদিবাসী মহিলাদের সাথে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন বিজেপির প্রায় সকল নেতারাই। কড়া ভাষায় পুলিশকে আক্রমণ করতে দেখা গেছে বিধায়ক বুধরাই টুডু ও বিজেপির মহিলা নেত্রী মাফুজা খাতুনকে। এর পরে মঞ্চে উঠে এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। একই সাথে আদিবাসী সমস্ত সংগঠনকে একত্রিত হয়ে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার অফিস তালাবন্ধ করার ডাক দিয়েছেন।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ৭২ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও অভিযুক্ত মহিলা নেত্রী এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। দল তাকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দিলেও পুলিশ এখনো নিশ্চুপ রয়েছে। যার প্রতিবাদে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় এসটি কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

