সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৫ মার্চ: কংগ্রেসের ডাকা বনধ শান্তিপূর্ণভাবেই হল পুরুলিয়ায়। জেলাজুড়ে ১২ ঘন্টার বনধে সব থেকে বেশি সাড়া পড়ে ঝালদায়। দলীয় কাউন্সিলর তপন কান্দুর খুনের ঘটনার প্রতিবাদে বনধ কার্যত স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষের সমর্থন পায়। সকাল থেকেই দোকানপাট খোলেনি। হাট বাজার বন্ধ থাকে। বেসরকারি বাস রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি। শুধু মাত্র সরকারি বাস কিছু চলাচল করে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে।
বনধের আওতায় ছিল না মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য যান বাহন, স্কুল, জরুরি পরিষেবা। সকাল থেকেই বনধের পক্ষে মিছিল করে কংগ্রেস। পুরুলিয়া শহরে কংগ্রেস নেতা কর্মীরা বিভিন্ন ব্যাঙ্কে গিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে পরিষেবা বন্ধ রাখার অনুরোধ রাখেন। খোলা দোকান বন্ধ করার জন্য বলেন। তবে, পুরুলিয়া শহরে বনধ সর্বাত্মক হয়নি। ঝাড়খণ্ডের বাস যাতায়াত করে।
দোকানপাট আংশিক বন্ধ থাকে। জেলার অন্যত্র একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। বেসরকারি বাস চলাচল না করায় কিছু যাত্রী সমস্যায় পড়েন। কাউন্সিলর তপন কান্দুর খুনের প্রতিবাদ সব স্তরের মানুষ সমর্থন করলেও অনেকেই বনধ চাননি।

ঝালদায় আজ সন্ধ্যায় মোমবাতি মিছিল করে কংগ্রেস। অগণিত মানুষ মিছিলে অংশ নেন। মিছিলের সামনের দিকে থাকা ব্যানারে কাউন্সিলর তপন কান্দুকে গুলি করে হত্যার পিছনে আইসির হাত রয়েছে কি না তার সিবিআই তদন্তের দাবি করা হয়।
এদিকে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান নিহত তপন কান্দুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে নিহতের স্ত্রী সদ্য জয়ী কাউন্সিলর পূর্ণিমা কান্দুকে সান্ত্বনা দেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনায় রাজ্যের অসহায়দের আইনি সহায়তা দেবে কংগ্রেস। আইনিভাবে লড়াই চলবে। মুখ্যমন্ত্রী নীরব কেন? কোনও বিবৃতি দেননি তিনি। এটাই অনেক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।”

