পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ৯ নভেম্বর: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে গেল যাত্রীবাহী বাস। ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন যাত্রী। স্থানীয় গ্রামবাসীরা যাত্রীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে লালগড় থানার অন্তর্গত শালচাতুরি এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানাগিয়েছে, এদিন সকালে মেদিনীপুর থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস যাত্রী নিয়ে ঝাড়গ্রামের উদ্দেশ্যে আসছিল। ঝাড়গ্রামে আসার পথে কংসাবতী নদী পেরিয়ে শালচাতুরি এলাকায় আনুমানিক সকাল সাতটা চল্লিশ মিনিট নাগাদ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাঁদিকে ঝু্ঁকে পড়ে। ধান জমি থেকে রাস্তা অনেক উঁচু থাকায় বাসটি বাঁ দিকে পাল্টি খেয়ে যায়। বাসের যাত্রীদের চিৎকারের শব্দ শুনে গ্রামের বাসিন্দারা উদ্ধারকাজের জন্য ছুটে আসেন।

জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর থেকে ঝাড়গ্রাম, ভায়া ধেরুয়া হয়ে এই বাসটি প্রতিদিন যাতায়াত করে। এদিন সকালে বাসটি আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী নিয়ে ঝাড়গ্রামের উদ্দেশ্যে আসছিল। বাসের যাত্রী মেদিনীপুরের বাসিন্দা সৌমেন রায় বলেন, “সকালে রাহী ট্রাভেলস নামের এই বাসে চেপে ঝাড়গ্রাম আসছিলাম। সেই সময় হঠাৎ করে বাসটি বাঁ দিকে ঝু্ঁকে পড়ে এবং পাল্টি খেয়ে যায়। হঠাৎ সকলে চিৎকার করে ওঠে, আমাদের চিৎকার শুনে এলাকার মানুষজন ছুটে আসে আমাদের উদ্ধার করার জন্য। আমি বাসের পেছনে বসেছিলাম। পেছনের কাঁচ ভেঙ্গপ বাইরে বেরিয়ে আসি। তেমনভাবে গুরুতর আঘাত পাইনি, কিন্তু হাতে চোট লেগেছে”। তিনি আরো বলেন,”বাসের দু-একজন যাত্রীর হাত-পা ভেঙ্গছে। তাদের ঝাড়গ্রাম গর্ভমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে”।
দুর্ঘটনাস্থলে থাকা পানের দোকানদার কল্যাণী চালক বলেন, “আমি তখন দোকানেই বসেছিলাম বাসটি আমার দোকান পেরিয়ে যাবার পরেই প্রবল জোরে শব্দ করে ওঠে। বেরিয়ে দেখি বাসটি উলটে গেছে। ভেতর থেকে মানুষ চিৎকার করছে তাদের বাঁচানোর জন্য। আমরা সবাই ছুটে যাই এবং তাদের বাসের ভেতর থেকে বার করানোর চেষ্টা করি। দুর্ঘটনায় কেউ মারা যায়নি, কিন্তু যাদের হাত পা ভেঙ্গেছে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে”। যদিও ঘটনার পর থেকে বাসের চালক ও কন্ট্রাক্টর পলাতক।
স্থানীয় গ্রামবাসী রোহিত চালক বলেন, “ধেরুয়া থেকে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত রাস্তাটি বেহাল দশায় রয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বহু গাড়ি যাতায়াত করে। রাস্তাটি প্রশাসনের উদ্যোগের সংস্কার না করলে এই ধরনের ঘটনা হামেশাই ঘটবে।

