সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৩ জুন: প্রথম প্রজন্ম হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করল ওরা। মাধ্যমিক পরীক্ষা দূর অস্ত, ওদের পরিবারে কেউ স্কুলের চৌকাঠ ডিঙিয়ে যাননি। সেই সব শবর জনজাতির কাছে আজ স্মরণীয় দিন। মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হল ছেলে মেয়েরা।
রাজ্যে যখন মেধা তালিকা নিয়ে সংবাদ মাধ্যম মাতোয়ারা তখন পুরুলিয়া জেলার বরাবাজার, বান্দোয়ান, মানবাজার ২, পুঞ্চা, পুরুলিয়া ১ প্রভৃতি ব্লকের শবর টোলায় অনাবিল আনন্দের জোয়ার দেখা গিয়েছে। ঠিক যেন ভাঙ্গা ঘরে চাঁদের আলো। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা এবং পরীক্ষায় বসা সবটাই করতে হয়েছে ওদের। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গ খেড়িয়া শবর কল্যাণ সমিতি পাশে থেকে উৎসাহ দিয়েছে ওদের।
সমিতির সভানেত্রী রত্নাবলী শবর ওই পরীক্ষার্থীদের হাতে পরীক্ষার আগে পেন, জ্যামিতি বাক্স, লেখার বোর্ড, জল তুলে দিয়েছিলেন।

সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় মোট ৩৮ জন পরীক্ষায় বসেছিল। এর মধ্যে ২২ জনের ফল হাতে এসেছে। সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনই মেয়ে। এটাই তাক লাগিয়ে দিয়েছে গ্রামাঞ্চলে।
শবর সম্প্রদায়ভুক্ত পরীক্ষার্থীদের সাফল্যে খুশি পশ্চিমবঙ্গ খেড়িয়া শবর কল্যাণ সমিতি।
সমিতির অধিকর্তা প্রশান্ত রক্ষিত বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শবর সম্প্রদায়ভুক্ত নবীন প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার আলোয় আনা এবং উচ্চ শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করা। সমাজের দূত হয়ে ওরাই উৎসাহিত করবে অন্যদের। আজ খুবই গৌরবের দিন।”
প্রথম প্রজন্ম হিসেবে মাধ্যমিক পাশ করে মানবাজার ২ ব্লকের কাশীপুর গ্রামের সর্মিলা শবর, পুরুলিয়া ১ ব্লকের মাহাতোডির সোমা শবর, বরা বাজারের লটপদা গ্রামের আকাশ শবর পরিতৃপ্তির হাসিতে জানিয়ে দিল অন্ধকার জীবনেও স্বপ্ন দেখা যায়।

