দুর্ঘটনায় নিহত ফুল চাষিদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি, তাদের পাশে থাকার আশ্বাস

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩০ অক্টোবর: পশ্চিম মেদিনীপুরের বুড়ামালা এলাকায় গত শনিবার ভোররাতে পথ দুর্ঘটনায় মৃত ফুল চাষিদের বাড়িতে গিয়ে আজ সান্তনা জানালেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি, জেলা পরিষদের নারী ও শিশু কর্মাধ্যক্ষ শান্তি টুডু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। আজ দুপুরে প্রতিভাদেবী মৃত ফুল চাষিদের বাড়িতে পৌঁছোন এবং তাদের সমস্ত রকমের সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

শনিবার ঘটে গিয়েছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মৃত্যু হয়েছে একই অঞ্চলের পাশপাশি গ্রামের পাঁচ তরতাজা ফুলচাষির। রবিবার আর ফুল বেচতে গেলেন না গ্রামের কেউ। গ্রামের যে কয়েকটি বাড়িতে ‘নিয়মরক্ষার’ লক্ষ্মীপুজো হয়েছিল, শঙ্খধ্বনি, আলো, ধুপধুনো ছাড়াই রবিবার জলে ঠাকুর ভাসিয়ে দিলেন বাসিন্দারা। রবিবার ও আজ গ্রামগুলিতে ছিল শ্মশানের নিরবতা। পরস্পর পরস্পরে সঙ্গে কথা বলছিল নিচু গলায়। মৃতদের বাড়িতেও আর বুক চাপড়ে কান্নার রোল নেই। দম ফুরিয়েছে। কেঁদে কেঁদে চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে মৃতের পরিজনদের। রবিবার মৃতদের পরিজনদের সঙ্গে দেখা করতে যান রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা।গতকাল পাঁচজন মৃত ফুলচাষির পরিবারের হাতে দু’লক্ষ টাকা এবং জখমদের পরিবারের হাতে কুড়ি হাজার টাকা তুলে দেন মন্ত্রী মানষ রঞ্জন ভুঁইঞা।

আজ সোমবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি বলেন, ‘মৃতদের অনেকেরই ছোট ছোট ছেলে মেয়ে রয়েছে। তাদের পাশে না দাঁড়ালে পরিবারগুলি ভেসে যাবে। আমাদের সরকার তাদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেবে। মৃতদের স্ত্রীরা যাতে বিধবা ভাতা সহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ সুবিধা পান, সেই ব্যবস্থাও করা হবে। আমাদের সরকার মৃতদের পরিবারের পাশে রয়েছে।

শনিবার ভোররাতে খড়্গপুর লোকাল থানার অন্তর্গত বুড়ামালা এলাকায় একটি পিকাপ ভ্যানে ফুল বোঝাই করার সময় পিছন থেকে পণ্যবাহী একটি লরি এসে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হয় মোট ছ’জনের। তারমধ্যে পাঁচজনের বাড়ি খড়্গপুর-২ ব্লকের কালিয়ারা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশাপাশি গ্রামে। দুর্ঘটনার পর থেকেই চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *