পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২২ জুন: সরকারি ঘরের বঞ্চনা নিয়ে এবার দক্ষিণ দিনাজপুরে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই আন্দোলন দলীয় কর্মীদের। অঞ্চল ও ব্লক অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাবার পাশাপাশি লিখিত অভিযোগ জানানো হয় বিডিওকেও। মঙ্গলবার এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় কুমারগঞ্জের সাফানগর এলাকায়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারি ঘর বিলিতে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত গরিব মানুষরা। তালিকায় নাম উঠে এসেছে প্রভাবশালী ও বিত্তশালীদের। এখানেই শেষ নয়, বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ অঞ্চলের তৃণমূল নেতারা ঘর পাইয়ে দেবার নাম করে হাজার হাজার টাকাও তুলছে এলাকার গরিব মানুষদের কাছ থেকে। তৃণমূল পরিচালিত সাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে খোদ দলের লোকেদেরই এমন অভিযোগ সামনে আসতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে শাসক দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। কুমারগঞ্জ ব্লকের সাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের এলেন্দরী এলাকার এমন ঘটনায় রীতিমতো আলোড়ন ফেলেছে গোটা জেলাতেই। এদিন দুপুরে প্রায় শতাধিক তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা দলীয় পতাকা নিয়ে একত্রিত হয়ে প্রথমে সাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে এবং সেখান থেকে ব্লক অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। শুধু তাই নয় এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগও বিডিওকে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্য শ্যামলী মার্ডি।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলেন্দরী এলাকায় সম্পূর্ণ স্বজনপোষণ এবং পক্ষপাতিত্ব করে সরকারি ঘর বিলি করা হয়েছে। প্রকৃত গরিব মানুষদের বঞ্চিত করে অবস্থা সম্পন্ন ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে সরকারি ঘর। কয়েকজন গরিব মানুষ ঘর পেলেও তাদের কাছে থেকে অবৈধ ভাবে টাকা তোলা হয়েছে। এমন সমস্যা থেকে নিস্তার পেতে সম্পূর্ণ উপভোক্তাদের তালিকা বাতিল করে নতুন ভাবে নাম তোলার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতারাই।
রহিমুদ্দিন মিঁঞা, জাকিরুল সরকার, আনসার আলী মোল্লা ও ফারসেদ আলম মিঁঞারা জানিয়েছেন, তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতে সম্পূর্ণ নিয়ম ভেঙ্গে ঘর প্রাপকদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে প্রকৃত গরিবদের নামই বাদ রাখা হয়েছে। এলাকার তৃণমূল নেতারা ঘরের নাম করে তুলেছে টাকাও। যার প্রতিবাদেই তাদের আন্দোলন।
তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য শ্যামলী মার্ডি জানিয়েছেন, প্রকৃত গরিব মানুষেরা ঘর পাচ্ছেন না এটা সঠিক। তবে টাকা তোলা হয়েছে কি না সে বিষয়ে তার জানা নেই। ঘটনা জানিয়ে বিডিওকে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
কুমারগঞ্জের বিডিও চেওয়াং তামাং জানিয়েছেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছাড়া এই বিষয়ে তিনি মুখ খুলতে পারবেন না।
জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌতম দাস জানিয়েছেন, সারাদিন কুমারগঞ্জে থাকলেও এমন ঘটনা তার জানা নেই। এমনটা হলে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

