সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৩০ জুলাই: দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র, দুর্নীতি সহ নানান অভিযোগ তুলে ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে অনাস্থার লিখিত প্রস্তাব দিলেন বিজেপির সদস্যরা। ৬ জন বিজেপি সদস্য ছাড়াও কংগ্রেস ও সিপিএমের সদস্যরারাও এতে সম্মতি জানান। এর জেরে থমকে গিয়েছে পুরুলিয়ার আড়ষা ব্লকের সিরকাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় উন্নয়নের কাজ। দলের প্রধানের বিরুদ্ধেই সদস্যরা অনাস্থা প্রস্তাব আনায় অস্বস্তিতে পড়েছে পুরুলিয়া জেলা বিজেপি।
বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৬ আসন বিশিষ্ট সিরকাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০টি আসন পেয়ে বোর্ড গঠন করেছিল বিজেপি। প্রধান, উপপ্রধান হয় বিজেপির পক্ষ থেকেই। গ্রাম পঞ্চায়েত পরিচালনার কয়েক মাস পরেই প্রধান সুমিত্রা মন্ডলের সাথে বিজেপির অন্যান্য সদস্য-সদস্যাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এরপরই প্রায় থমকে যায় উন্নয়নমূলক কাজ। বিজেপি প্রধান সুমিত্রা মন্ডলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, একনায়কতন্ত্র সহ দল বিরোধী কাজের নানান অভিযোগ তোলেন বিজেপি সদস্য সদস্যা সহ কংগ্রেস ও সিপিএমের সদস্যরা। এমনকি প্রধানকে সময়মতো পঞ্চায়েত অফিসেও পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ। এরপরই বিজেপির ৬ জন সদস্য সদস্যা, সিপিএমের ২ এবং কংগ্রেসের ১ সদস্য সিরকাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমিত্রা মন্ডলের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। ইতিমধ্যেই সেই অনাস্থার লিখিত প্রস্তাব আড়ষা ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছেও জমা পড়েছে।
বিজেপি সদস্য কিরণ কুমার এবং সহদেব বাউরি বলেন,
“২০১৮ সালে এই পঞ্চায়েতে ক্ষমতায় আসার দু’মাস পর থেকে প্রধান সুমিত্রা মণ্ডল এমন সব কাজ করছেন যার জন্য মানুষকে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। অফিসেও তিনি নিয়মিত থাকেন না। বিষয়টি দলের উপর মহলে জানিয়েও কিছু হয়নি। তাই প্রধানের অপসারণ চেয়ে বিডিও’র কাছে প্রস্তাব আকারে চিঠি দিই আমরা ছয় জন সদস্য। আমাদের সঙ্গে কংগ্রেস ও সিপিএমের তিনজন সদস্য প্রস্তাব চিঠিতে সই করে সম্মতি জানান।”
বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিএমের সদস্য-সদস্যাদের তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিরকাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমিত্রা মন্ডল। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। নিয়ম মেনে সব সদস্যদের মর্যাদা দিয়ে সভায় আমন্ত্রণ এবং আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উন্নয়নে বাধা দিয়ে আসলে গ্রামবাসীদের ক্ষতি করছেন এঁরা। এটা দুর্ভাগ্য জনক।”

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে জেলা বিজেপিতে। উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে নেতৃত্বের। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে প্রস্তুত হচ্ছেন তাঁরা। ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা বিজেপি সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে দলীয় ভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

