ভোল বদল কুনাল ঘোষের! এখুনি দল ও মন্ত্রিত্বকে সরানো হোক পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে, টুইট করে দাবি

আমাদের ভারত, ২৮ জুলাই:
অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বেলঘড়িয়ার ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ও সোনা উদ্ধারের পর এক লহমায় ভোলবদল তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষের। এদিন টুইট করে কুনাল বলেন, এখুনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে অপসারিত করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এটা বলা যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে দলও তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে।

বিরোধীদের দাবি, পার্থ চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে কুনাল ঘোষ যেটা বলছেন সেটা আসলে দলের একটা বড় অংশের কথা। আজ রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বড় কোনো পদক্ষেপ হতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

টুইটার একাউন্টে কুনাল ঘোষ লিখেছেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে অবিলম্বে মন্ত্রিত্ব এবং দলের সমস্ত পদ থেকে অপসারণ করা উচিত। তাকে বহিষ্কার করা উচিত। আর যদি এই বক্তব্য যদি ভুল বলে মনে করা হয় তাহলে আমাকে আমার সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অধিকার রয়েছে দলের। আমি দলের একজন সৈনিক হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাব।”

বুধবার ফের অর্পিতার বেলঘড়িয়ার ফ্ল্যাট থেকে বিপুল টাকা উদ্ধার হতে শুরু করতেই মুখ খোলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “এই বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। যা ঘটেছে তা দলের জন্য এবং আমাদের সকলের জন্য লজ্জার ও কলঙ্কের। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, কেন তিনি মন্ত্রীপদ ছাড়বেন? সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি জনসমক্ষে সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলতে পারছেন না যে তিনি নির্দোষ। এটা করতে তাকে কে বাধা দিচ্ছে?”

কুনালের বক্তব্য” আমি আশাকরি দল জনগণের উপলব্ধি বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।”

বিরোধীদের মতে আসলে, কুনাল সহ তৃণমূল কংগ্রেসের গোটা দল চাইছে এই অস্বস্তি কাটাতে। সেই কারণেই কুনাল বলেছেন, এখনই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সমস্ত পদ ও মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত।

বুধবার রাতে অর্পিতার বেলঘড়িয়ার ফ্ল্যাটে কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের পর কুনাল বলেন, “এই ছবি আমাদের মাথা হেঁট করে দেওয়ার মতো। অত্যন্ত উদ্বেগের ছবি। এটা একেবারেই কাম্য নয়। এত টাকা কে রাখল? কারা রাখল? কিভাবে রাখল তা তদন্ত করে তাদের সম্পর্কে ইডি ন্যূনতম তথ্য-প্রমাণ আদালতে পেশ করলে দল উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।”

পরে অবশ্য টুইটটি তিনি সরিয়ে নেন। তার পরিবর্তে একটি অন্য টুইট করেন। তাতে লেখেন, আগের টুইটে আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত জানিয়েছিলাম। কিন্তু দল এখন বিষয়টি দেখছে। আজ বিকেল পাঁচটায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ভবনে মিটিং ডেকেছেন আমিও সেখানে যাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *