জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৭ এপ্রিল: ভোট মিটতেই আবার উত্তপ্ত পান্ডবেশ্বর বিধানসভার লবনাপাড়া। বুথে বসার অপরাধে বিজেপিকর্মীদের মারধর, প্রাননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল লবনাপাড়া গ্রামে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামল বিশালপুলিশবাহিনী।
ঘটনায় জানা গেছে, সোমবার ছিল ষষ্ঠ দফায় পান্ডবেশ্বর বিধানসভার নির্বাচন। দিনভর কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া, শান্তিপুর্ন ছিল নির্বাচন। কিন্তু ভোটদান পর্ব মিটতে সন্ধ্যা নাগাদ তপ্ত হতে শুরু করে পান্ডবেশ্বরের লবনাপাড়া গ্রামে। অভিযোগ, এদিন সন্ধ্যার পর থেকে বুথে বসার অপরাধে বিজেপিকর্মীদের বাড়ী বাড়ী হুমকি আসতে শুরু করে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিজেপির বুথে বসা কর্মীদের বাড়ীতে আক্রমন শুরু হয় বলে অভিযোগ। সাত সকালে প্রাতঃক্রিয়া করতে গিয়ে আক্রান্ত হয় লাল্টু রুইদাস নামে এক বুথ এজেন্ট। তিনি বলেন, ‘ভোটে বুথে বসেছিলাম। সন্ধ্যা থেকেই হুমকি আসছিল আমাদের কর্মীদের ওপর। সকালে আমাকে একা পেয়ে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে গ্রামের তৃণমূলের লোকজন। প্রাণে মারার হুমকি দেয়। বাড়ীর মহিলাদের ওপর হামলার হুমকি দেয়। জোর করে বিজেপির পতাকা খোলা করায়। তারপর তৃণমূলের লেকজন সেগুলো আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়।” একই রকমভাবে আক্রান্ত হয় হাসিবুল মিদ্যা নামে বুথ সভাপতি ও ইসরাইল নামে আরও এককর্মী। গ্রামের ২২২ নং বুথ সভাপতি হাসিবুল মিদ্যা জানান, “বিজেপি করি। তাই ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে। মারধর করেছে। যেভাবে হুমকি দিয়েছে, প্রানে মেরে ফেলবে। তাই প্রান ভয়ে বাড়ীতে আতঙ্কিত।”
লায়লা মিদ্যা, খুলসুমা মিদ্যা প্রমুখ মহিলারা জানান, ‘আতঙ্কে বাড়ীর বাইরে যেতে পারছি না। কলে জল নিতে যেতে ভয় হচ্ছে। দোকানে কিছু কিনতে যেতে পারছি না। বাড়ীর বাইরে পেলে মারবে হুমকি দিয়েছে।”
যদিও এদিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশালপুলিশ বাহিনী। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পান্ডবেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী বলেন, ‘রাজ্যজুড়ে যেভাবে গেরুয়া ঝড় উঠেছে। একইরকমভাবে পান্ডবেশ্বরে। ভোটে হেরে যাবে। তাই হতাশায় এভাবে হিংসার আশ্রয় নিয়েছে তৃণমূল। আমরা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি। পুলিশ দেখছে বিষয়টি।” অভিযোগ অস্বিকার করে পাল্টা স্থানীয় তৃণমূল নেতা আরমিয়া মল্লিক অভিযোগ করে বলেন,” এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। হেরে যাওয়ার ভয়ে বিজেপি কর্মীরা এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। লবনাপাড়া এলাকার শান্তি নষ্ট করছে বিজেপি।” ঘটনার পর গোটা এলাকায় পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।

