আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ৮ আগস্ট: মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্য সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও কুড়মি সামাজিক সংগঠনের নেতারা। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর প্রথম জেলা সফরে ঝাড়গ্রামে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা সফরে পৌঁছে আদিবাসীদের সামাজিক সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পারগাণা মহল এবং কুড়মি সামাজিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার বিকেলে ঝাড়গ্রাম পৌছান মুখ্যমন্ত্রী। ঝাড়গ্রাম টুরিস্ট কমপ্লেক্সে রাত্রি যাপন করবেন এবং আগামীকাল ৯ই আগস্ট আন্তর্জাতি আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এদিন ঝাড়গ্রামে পৌঁছেই ঝাড়গ্রাম টুরিস্ট কমপ্লেক্সে আদিবাসীদের সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব এবং কুড়মি সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সামনেই লোকসভা নির্বাচন। তার আগেই জঙ্গলমহলের সামাজিক সংগঠন গুলিকে তৃণমূলের পক্ষে আস্থাশীল রাখার জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের জেলা পারগানা তথা জেলা নেতৃত্ব ঢাঙ্গা হাঁসদা বলেন,”আমাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সাঁওতালি মাধ্যমের বিদ্যালয় ও কলেজ চালু করার জন্য জানিয়েছি। বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে সাঁওতাল সহ এসটি’দের উনি সহযোগিতা করবেন এবং আমরা উনাকে সহযোগিতা করব। ঝাড়গ্রাম জেলার জন্য উনি যেভাবে কাজ করেছেন তার জন্য আমরা ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের পক্ষ থেকে উনাকে অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ঝাড়গ্রাম জেলার প্রতিটি ব্লকে একটি করে সাঁওতালি মডেল স্কুল তৈরি হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এখানে জাহের থান তৈরি করা হবে, তার পাশাপাশি যে সমস্ত এসটিদের বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা বন্ধ রয়েছে তা ইতিমধ্যে চালু করা হবে। উনি আমাদের জন্য যে সমস্ত কাজ করেছেন তার জন্য আমরা উনাকে সংবর্ধনা জানালাম”।
আদিবাসী সামাজিক সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী কুড়মি সমাজ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি রাজেশ মাহাতো, আদিবাসী নাগাচারী কুড়মি সমাজের রাজ্য সভাপতি অনুপ মাহাতো, আদিবাসী জনজাতি কুড়মি সমাজের রাজ্য সভাপতি শিবাজী মাহাতোর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে কুড়মি সমাজ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি রাজেশ মাহাতো বলেন, “প্রথমত আমরা ওনার সঙ্গে দেখা করে উনি যে আমাদের করম পরবের পূর্ণ দিবসের ছুটি দিয়েছেন তার জন্য উনাকে আমরা ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলাম। কুড়মি জাতির যে এসটি তালিকার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি সেই বিষয়ে উনার সঙ্গে আলোচনা করলাম, যাতে আমাদের ৭৩ বছরের বঞ্চনার দূর হয় এবং আমাদের সমাজের একাধিক উন্নয়ন বিষয় প্রসঙ্গে ওনার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়। আমাদের সামাজিক যে জাতিসত্তার দাবিটি রয়েছে সেই প্রসঙ্গে উনার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়। উনি কুড়মালি ভাষার স্বীকৃতি দিয়েছেন, কুড়মি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড গঠন করেছেন এবং করম পরবের পূর্ণ ছুটি ঘোষণা করেছেন সেটার জন্য উনাকে ধন্যবাদ জানালাম। আমাদের দাবি পূরণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্র সরকারের মধ্যে যে টালবাহানা হচ্ছে সেই সম্পর্কে আমরা উনার সঙ্গে আলোচনা করলাম”।
রাজেশবাবু আরো বলেন, “আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চলছে, চলবে।আমরা জাতিসত্তার আন্দোলন করছি, আমরা রাজ্যের শত্রু নই কেন্দ্রের শত্রু নই। আমরা আমাদের দাবি পূরণের জন্য সাংবিধানিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি। দাবি না পূরণ হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা আমাদের দাবির প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করলাম আপনি এই বিষয়টি দেখুন এবং তাড়াতাড়ি আমাদের দাবির বিষয়টি নিষ্পত্তি করুন। উনি কুড়মিদের জন্য যা করেছেন তার জন্য আমরা যথাযথভাবে উনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। উনি অনেক কিছু করেছে কুড়মিদের জন্য যা আগে কোনো রাজ্য সরকার করেনি”।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিল কুড়মি নেতারা। সেই মামলা চলছে সেই প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে? রাজেশ মাহাতোকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “এই বিষয়টি আইন বিচার করবে। আমরা নির্দোষ। আইনের উপর আমাদের ভরসা রয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কেন আলোচনা করব?” তিনি আরো বলেন, “যে কোনো উপায়ে জঙ্গলমহলে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে কথা হয়েছে” ।

