পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২১ জুন: টাকার বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে পঞ্চায়েতের টিকিট! প্রতিবাদে বিধায়িকার স্বামীকে জামার কলার ধরে মারধর মহিলাদের। টেনে ছিঁড়ে দেওয়া হয় তার পরনের জামাও। ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডিতে। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা জানিয়ে পুলিশেরও দ্বারস্থ হয়েছেন কুশমন্ডি বিধানসভার তৃণমূলের বিধায়িকার স্বামী নকুল রায়। যিনি ওই ব্লকের দেউল অঞ্চলের অঞ্চল সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। যার বিরুদ্ধেই নির্দল প্রার্থীকে টাকার বিনিময়ে টিকিট দেবার অভিযোগ উঠেছে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার ছিল নমিনেশন প্রত্যাহারের শেষ দিন। সেই চুড়ান্ত সময়ে নমিনেশন প্রত্যাহার নিয়েই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর ঝামেলার সূত্রপাত। জানা যায়, কুশমন্ডি ব্লকের মহিপাল এলাকার পঞ্চায়েত সমিতির আসনটি থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে মনোনীত হন নার্গিস বেগম। দলীয় নেতৃত্বদের নির্দেশ মেনে ১৫ জুন তারিখে মনোনয়নও জমা দেন নার্গিস বেগম। এদিকে ওই এলাকায় তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে নির্দল হিসাবে মনোনয়ন জমা দেন পিউ ঘোষ নামে অপর এক মহিলা। দলের সাথে পিউ সেভাবে যুক্ত না থাকলেও চুড়ান্ত দিনে দলের প্রার্থী নার্গিস বেগমকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবার নির্দেশ দেন ব্লক সভাপতি বলে অভিযোগ। যে ঘটনায় কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নার্গিস বেগম সহ এলাকার কয়েকশো মহিলারা। দলের একনিষ্ঠ কর্মীকে বাদ দিয়ে কেন নির্দল প্রার্থীকে টিকিট দেওয় হবে সেই প্রশ্ন তুলেই সরব হন মহিলারা।

ঘটনা নিয়ে আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ তুলেছেন নার্গিস বেগম। টাকার বিনিময়েই অঞ্চল সভাপতি নকুল রায় পিউ ঘোষ নামে ওই মহিলাকে টিকিট পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন নার্গিস বেগম। যার প্রতিবাদেই ওইদিন বিধায়িকার স্বামী নকুল রায়কে হেনস্থা করেন নার্গিস বেগম নামে ওই মহিলা। ছিড়ে দেওয়া হয় বিধায়িকার স্বামীর পরনের জামাও। ঘটনার কথা অবশ্য স্বীকার-ও করেছেন নার্গিস বেগম। যদিও পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে ওই বিক্ষুব্ধ মহিলাদের হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন নকুল রায়।
এদিকে শেষ দিনেও ওই আসন থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেননি নার্গিস বেগম। মঙ্গলবার দীর্ঘ রাত অবধি এই ঘটনা ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। যদিও বিধায়িকার স্বামী নকুল রায়ের অভিযোগ, এলাকার জেলা পরিষদ সদস্য মিঠু জোয়ার্দ্দার ও তার ছেলের উস্কানিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে ওইদিন রাতে কুশমন্ডি থানায় মৌখিক অভিযোগও জানিয়েছেন নকুলবাবু। যদিও তার তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিঠু জোয়ার্দ্দার।

নার্গিস বেগম বলেন, দলের নির্দেশেই মনোনয়ন জমা করেন তিনি। কিন্তু শেষ দিনে তাকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বলা হয়। টাকা দিয়ে নির্দল প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। যার কারণ জানতে চাইতেই বিধায়িকার স্বামীর কলার ধরেছেন তিনি। যদিও আগে তাকে ধাক্কা দিয়েছিলেন নকুল রায়।
কুশমন্ডির বিধায়িকা রেখা রায়ের স্বামী নকুল রায় বলেন, টিকিট দেয় দল। সেক্ষেত্রে তাঁর মতো একজন অঞ্চল সভাপতির কী করার আছে? কিন্তু এদিন ওই মহিলা তাকে ও ব্লকের অনান্য নেতৃত্বদের হেনস্থা করেছেন। ছিড়ে দিয়েছে জামা। পুরো ঘটনাটি মিঠু জোয়ার্দ্দার ও তার ছেলের উস্কানিতেই হয়েছে।
জেলা পরিষদ সদস্য মিঠু জোয়ার্দ্দার অবশ্য জানিয়েছেন, এব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। যেহেতু তার এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে তাই মিথ্যে তার উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন নকুল রায়।

