স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদীয়া, ৭ জুলাই:
নদীয়ার শান্তিপুরের ফুলিয়া টাউনশিপ থেকে ২৮ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন বিজেপির মন্ডল সভাপতি, পেশায় শিক্ষক চঞ্চল চক্রবর্তী। সম্প্রতি বিভিন্ন সভা-সমিতিতে তিনি বলে আসছিলেন শাসক দল তাকে নানাভাবে বিব্রত করে আসছে। কিন্তু গতকাল রাতে সেই মাত্রা অনেকটাই ছাড়িয়ে গেলো। সরাসরি না হলেও, প্রকারান্তরে বিজেপি প্রার্থীকে দেওয়া হলো মৃত্যুর হুমকি। তার বাড়ির সামনে গতকাল কেউ বা কারা রেখে গেছে শ্রীম্মদ ভাগবত গীতা, তুলসী পাতা, ধূপকাঠি, মিষ্টি এবং সাদা থান। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী মৃত্যুর পর পরলৌকিক ক্রিয়াকর্মাদিতে যা ব্যবহৃত হয় সেই সব উপকরণ বাড়ির সামনে ফেলে রেখে প্রকৃতপক্ষে তাঁর মৃত্যুর আগাম বার্তাই দিতে চেয়েছেন দুষ্কৃতীরা।

সম্প্রতি গতকাল বনগাঁয় ভারতীয় জনতা পার্টির পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থীর বিরুদ্ধে এ রকমই নোংরা রাজনীতি দেখাগেছে। সেখানেও শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বিজেপির ওই প্রার্থী। তবে এই রাজনৈতিক নোংরা অপসংস্কৃতি শুধু এই জমানায় নয়, আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর আগে আরামবাগে বাম সমর্থিত এক নির্দল প্রার্থীর বিরুদ্ধেও তৎকালীন শাসক দল অর্থাৎ বামফ্রন্টের প্রধান শরিক সিপিআইএমের বিরুদ্ধে উঠেছিলো অভিযোগ।
তবে গতকাল ফুলিয়ার জঘন্য এই দুষকর্মে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছেন প্রার্থী চঞ্চল চক্রবর্তীর মা মীরা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে পরিবারের সাথে এ ধরনের আচরণ নোংরামি ছাড়া আর কিছু নয়। চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, মূলত ওই কেন্দ্রে আমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় পেরে না উঠে জঘন্য এই নিম্নমানের রুচির পরিচয় বলে আখ্যায়িত করে সরাসরি শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, শাসক দল বুঝতে পেরেছে এ কেন্দ্রে আমার জয় নিশ্চিত তাই পরিবারের আবেগ নিয়ে এবং প্রচ্ছন্ন মৃত্যু হুমকি দিয়ে দমাতে চাইছে।

যদিও ফুলিয়া টাউনশিপের বিদায়ী বোর্ডের প্রধান তথা এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী উৎপল বসাক জানান, একসময় সিপিএম এবং পরবর্তীতে তৃণমূল থেকে যে ধমকানো চমকানোর রাজনীতিতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন আজ তার বাড়িতে এই ঘটনা যথেষ্ট সন্দেহজনক। পায়ের তলা থেকে জমি হারিয়ে প্রচারে আসার জন্যই হয়তো এই অপপ্রচেষ্টা। তবে তিনি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের জন্য।
প্রসঙ্গত, অতীতে ফুলিয়া এলাকায় বামপন্থী আন্দোলনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ, তৎকালীন কংগ্রেসের বিধায়ক শংকর সিংহের সাথে তৃণমূলে যোগদান করেন। যদিও সেখানে স্থায়িত্ব হয়েছিলো মাত্র দু’বছর, এরপরে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করে, বর্তমানে মন্ডল সভাপতির সাথে ২৮ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির এবারের ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী। তবে গতকালকের নিন্দনীয় ঘটনায় চঞ্চলবাবুর অভিযোগ, শান্তিপুর থানার পুলিশ এসে খতিয়ে দেখে গেছে গোটা বিষয়টি এবং তদন্ত শুরু করেছেন।

