আমাদের ভারত, ৪ এপ্রিল: পাঞ্জাবের চন্ডীগড়ে বিজেপির দলীয় অফিসে বিস্ফোরণের ঘটনায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেনেড হামলার তদন্তে নেমে পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তারা জানতে পেরেছে, এই হামলার পেছনে রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। কেবল তাই নয়, বিদেশে বসে এই হামলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।
পাকিস্তানি হ্যান্ডেলার পর্তুগাল ও জার্মানিতে বসে এই হামলার নির্দেশ দেয় বলে জানাগেছে। গত বুধবার বিজেপি পার্টি অফিসের বাইরে ব্যাপক বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। পরে হামলার দায় নেয় খালিস্থানের সমর্থক সুখজিন্দার সিং বব্বর। একইসঙ্গে ওই সময় হুমকি দিয়ে বলা হয়, পাঞ্জাবের মাটি খালসার মাটি। পাঞ্জাব খালিস্তান হবে। বিস্ফোরণের ঘটনার পর তদন্তে নামে পাঞ্জাব পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা ও চন্ডিগড় পুলিশ।
হামলার তদন্তে নেমে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় পাঁচ অভিযুক্তকে। পাশাপাশি হামলায় জড়িত প্রধান দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি ত্রিশ বোরের পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে জানাগেছে, পুরো ঘটনাটায় পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই যুক্ত। বিদেশে বসে থাকা হ্যান্ডেলারদের নির্দেশে কাজ করত এই গ্রেফতার হওয়া অপরাধীদরা। পর্তুগাল ও জার্মানি থেকে অভিযুক্তদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল হামলা চালাতে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দেশ দেওয়ার জন্য মাঝে ব্যবহৃত হয়েছে একাধিক সাব মডিউল। এদের কাজ ছিল আলাদা আলাদা। কেউ অস্ত্রের সরবরাহ করেছে, কেউ পরিবহন, তো কেউ হামলার কাজে নিযুক্ত। হামলার পর পাঁচজনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি দুই মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।
তদন্তে জানাগেছে, গ্রেফতার হওয়া সন্দেহ ভাজনরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বহু হাত ঘুরে এসব অস্ত্র হামলাকারীদের কাছে পৌঁছেছিল। পুলিশের দাবি, সন্দেহভাজন জঙ্গিরা শুধু পার্টি অফিসে হামলা নয়, পরিকল্পনা করেছিল সারা দেশের নানা জায়গায় হামলা চালানোর। ফলে অভিযুক্তদের গ্রেফতারি বড়সড় সাফল্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

