আমাদের ভারত, ২৭ আগস্ট: শুক্রবার পাকিস্তানের গুপ্তচর সন্দেহে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে এক ব্যক্তি। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সুকান্ত মজুমদার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, বাংলা সরকার পাকিস্তানকে ভালোবাসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারের সমর্থন পায় আই এস আই এজেন্টরা।
এর আগে বেশ কয়েকবার আই এস আই সন্দেহে কয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই প্রেক্ষিতেই পাকিস্তান আর তৃণমূলের মধ্যে সুসম্পর্ক আছে বলে দাবি করেছেন সুকান্ত। শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে দলীয় সভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। সেখানেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
কলকাতা পুলিশের এসটিএফ-এর শাখা যে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে, সে বিহারের বাসিন্দা। তার নাম ভক্ত বংশী। দিল্লির একটি সংস্থার কুরিয়ার বয়ের কাজ করে। গত তিন মাসে কাজ করতে করতে সে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছে। শহরের একাধিক সংবেদনশীল জায়গার ছবি তুলেছে এবং তার ভিডিওগ্রাফিও করেছে অভিযুক্ত। তারপর দিল্লি পৌঁছে বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সেই ছবি পাকিস্তানি এক মহিলার কাছে পাঠিয়েছে। পুলিশের সন্দেহ ঐ মহিলা পাকিস্তানের ইন্টালিজেন্স বিভাগের সঙ্গে যুক্ত। তাই এতদিনে দেশের বহু গোপন তথ্য ওই মহিলার কাছে পৌঁছে গিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা।
এই ঘটনার জন্য তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেছেন সুকান্ত। তিনি বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার পাকিস্তানকে ভালোবাসে। পাকিস্তানের জন্য কাজ করছে এমন লোকজন যেমন আইএসআই এজেন্টরা বাংলায় বসবাস করতে পারে। এখানে থেকে তারা ভারত বিরোধী কাজকর্ম করে। এরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সরকারের সমর্থন পায়।”
#WATCH | West Bengal BJP president Sukanta Majumdar says, "The current government in West Bengal is a Pakistan-loving government. This is the reason why people working for Pakistan such as ISI agents are staying in West Bengal and using it as the epicentre to work against our… pic.twitter.com/MBRIKRQwOK
— ANI (@ANI) August 27, 2023
গত ডিসেম্বরে আইএসআই এজেন্ট সন্দেহে এক টোটো চালককে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা এসটিএফ। ধৃতের নাম মহম্মদ শাকিল। সে শিলিগুড়িতে টোটো চালাতে। সে গুড্ডু কুমার নামে নিজের পরিচয় দিত। বিহারে চম্পারনের বাসিন্দা সে। কয়েক বছর শিলিগুড়িতে একটি বাড়ি ভাড়া করেছিল। সূত্রের খবর, শিলিগুড়ি থেকে সেনার গোপন তথ্য অন্য দেশে পাচার করছিল সে। এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নড়ে চড়ে বসে। তারা কলকাতা পুলিশকে সতর্ক করে এবং পুলিশের এসটিএফ গুড্ডু কুমার’কে গ্রেফতার করে। এরপর শুক্রবার ফের কলকাতায় এক সন্দেহভাজন পাক গুপ্তচর গ্রেফতার হলো।

