প্রয়োজনের চেয়ে ৪ গুণ বেশি অক্সিজেন চেয়েছিল দিল্লি সরকার সুপ্রিম কোর্টে বলল অডিট কমিটি, “রিপোর্ট বিজেপির তৈরি” দাবি সিসোদিয়ার

আমাদের ভারত, ২৫ জুন:রোগী শুশ্রূষার জন্য ঠিক যতটা পরিমাণে অক্সিজেন প্রয়োজন ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি চেয়েছিল রাজ্য সরকার। এমনই অভিযোগ উঠেছে কেজরিওয়াল সরকারের বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্টের গঠন করা অক্সিজেন অডিট কমিটি এই অভিযোগ করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় যতটা প্রয়োজন ছিল অক্সিজেন, তার ৪ গুণ বেশি চেয়েছিল দিল্লি সরকার, যার ফলে অন্যান্য রাজ্যে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা যায়।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যখন প্রবল আকার ধারণ করেছিল তখন প্রায় প্রতিদিনই অক্সিজেন নিয়ে দিল্লি সরকার ও কেন্দ্রের মধ্যে বিতর্ক লেগেই থাকত। শেষ পর্যন্ত এই সমস্যা গড়ায় দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। দিল্লিতে একাধিক হাসপাতলে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয় একাধিক করোনা রোগীর। এরপর দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে কেন্দ্র সরকার দিল্লিতে পাঠানো অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু অডিটের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে দিল্লিতে দৈনিক প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন অক্সিজেনের প্রয়োজন ছিল। সেখানে ১২০০ মেট্রিক টন চাহিদার কথা জানানো হয়েছিল। আর এই চাহিদা মেটাতে গিয়ে বারোটি রাজ্যে অক্সিজেনের মারাত্মক ঘাটতি দেখা যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই রিপোর্টে।

দিল্লি সরকার জানিয়েছিল এমনিতেই দৈনিক ৩০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় প্রতিদিন ৭০০ মেট্রিক টনের বেশি অক্সিজেনের প্রয়োজন ছিল। আর সেই কারণেই দিল্লি সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। এমনকি বেশ কিছুদিন দৈনিক ১২০০ মেট্রিক টন অক্সিজেনের প্রয়োজন ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো সে দাবি মিটিয়েছে কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্টের গঠন করে দেওয়া জাতীয় টাস্কফোর্স দেশে মেডিকেল অক্সিজেনের যোগান ও বিতরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। সেখানে দেখা গেছে ১৩ মে দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেনের ট্যাংক ভর্তি ছিল ৭৫ শতাংশ। এর ফলে দিল্লিতে ঐদিন অক্সিজেন পরিবহনকারী ট্যাংকার খালি করা যায়নি। হাসপাতাল থেকে অক্সিজেনের অভাব সংক্রান্ত ভুল তথ্য পৌঁছেছে, যার ফলে ২৯ এপ্রিল থেকে ১০মে-র মধ্যে দিল্লিতে অক্সিজেনের বরাত বাড়তে থাকে। এরপর দিল্লি সরকার খতিয়ে দেখে ভুল সংশোধন করে। দেখা যায় দিল্লিতে অক্সিজেনের চাহিদা ২০৯ মেট্রিক টন।

যদিও দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া দাবি করেছেন, এই রিপোর্টের কোনও অস্তিত্ব নেই। তার আরও দাবি বিজেপির সদর দপ্তরে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। তার কথায়,”বিজেপি মিথ্যে বলছে, আমরা অক্সিজেন অডিট কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন তারা এই রিপোর্টে স্বাক্ষর করেননি। যখন তারা কোনও রিপোর্টে স্বাক্ষর করেননি তখনই এই রিপোর্ট তারা অনুমোদন করেননি। তাহলে কোথা থেকে রিপোর্ট এলো?” তিনি অডিট কমিটি স্বাক্ষরিত রিপোর্ট প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বিজেপিকে। তার দাবি বিজেপি তাদের দপ্তরে তৈরি একটি ভুল রিপোর্ট দেখাচ্ছে। তার পাল্টা দাবি, দিল্লিতে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়, রাজ্যে রাজ্যে অক্সিজেনের যোগানের সমস্যার জন্য কেন্দ্র দায়ী ছিল। রোগীদের পরিজনরা কি মিথ্যে বলছেন? চিকিৎসকরা কি তখন মিথ্যে বলেছিলেন? যারা আদালতে গিয়েছিলেন তারা কি সবাই মিথ্যে বলেছিলেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *