রাতারাতি শহরের ভোটার লিস্টে নাম উঠলো তৃণমূল প্রার্থীর! প্রার্থীপদ খারিজের আবেদন নিয়ে বালুরঘাটে নির্বাচন আধিকারিকের দ্বারস্থ বাম-বিজেপি

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১০ ফেব্রুয়ারি: রাতারাতি শহরের ভোটার লিস্টে এক তৃণমূল প্রার্থীর নাম ওঠাকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক বালুরঘাটে। শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চকভৃগু এলাকার প্রার্থী অনুশ্রী মহন্তর এইভাবে নাম ওঠাকে ঘিরে শুরু হয়েছে এই বিতর্ক। একজোটে নমিনেশন খারিজের আবেদন জানিয়েছে বাম-বিজেপি। বৃহস্পতিবার লিখিত অভিযোগ জানিয়ে সরব হয় বিরোধীরা।

বিজেপির দাবি, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী অনুশ্রী মহন্ত পঞ্চায়েত এলাকার ভোটার। গ্রামীণ ভোটার কিভাবে পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই ৯ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত ভোটার লিস্ট প্রকাশ করা হয়। বিজেপির দাবি, ৭ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার লিস্ট প্রকাশ করেছিল জেলা প্রশাসন। সেখানে তৃণমূলের এই প্রার্থীর নাম ছিল না, তাহলে ৯ তারিখের ভোটার লিস্টে কিভাবে ওই তৃণমূল প্রার্থীর নাম উঠল? শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে সরকারি কোনও বিজ্ঞপ্তিও ছিল কিনা তাও জানতে চেয়েছে বাম- বিজেপির নেতৃত্ব। অবিলম্বে অনুশ্রী মহন্তর প্রার্থী পদ বাতিলের দাবিতে এদিন মহকুমা শাসক তথা বালুঘাট পৌরসভার নির্বাচনী আধিকারিক সুমন দাশগুপ্তের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয় বিজেপি।

অপরদিকে এই ঘটনা নিয়ে বামদল আরএসপির পক্ষ থেকেও একই অভিযোগ তোলা হয়েছে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, অনুশ্রী মহন্ত গ্রামীণ এলাকা থেকে পৌর এলাকায় নাম তুলেছে আবেদন করেই।

উল্লেখ্য, বালুরঘাট শহরের চকভৃগু এলাকার বাসিন্দা অনুশ্রী মহন্ত পুরসভা এলাকার হলেও তার নাম কোনও অজ্ঞাত কারনে পঞ্চায়েতের ভোটার লিস্টে থেকে যায়। ১ লা জানুয়ারি প্রকাশিত ড্রাফট ভোটার তালিকাতেও সেই চিত্রই সামনে আসে। এরপর ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত চুড়ান্ত ভোটার তালিকাতেও পঞ্চায়েতেই নাম থেকে যায় ওই তৃণমূল প্রার্থী অনুশ্রী মহন্তর। তারপরে কিভাবে শহরের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম উঠলো তা নিয়েই একজোটে প্রশ্ন তুলে সরব হয় বিরোধীরা। যদিও প্রার্থীর দাবি, জানুয়ারিতেই এব্যাপারে সংশোধনের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী জানান, গত ৭ তারিখের ভোটার তালিকায় অনুশ্রী মহন্ত গ্রামীণ এলাকার ভোটার বলে জানতে পারি। ৯ তারিখের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম পৌর এলাকায় রয়েছে। ওই ৯ তারিখেই তিনি নমিনেশন জমা দেন। এখানে দুর্নীতির গন্ধ রয়েছে।

আরএসপি নেতা প্রলয় ঘোষ জানান, আমাদের কাছে প্রশাসন থেকে দেওয়া ভোটার তালিকায় তৃণমূল প্রার্থীর নাম নেই। অথচ, ৯ তারিখের তালিকায় নাম রয়েছে। এখানে দুর্নীতি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তৃণমূলের শহর সভাপতি বিমান দাস জানান, বিজেপির কোনো ইস্যু নেই, সেই কারণে বিষয়টি না জেনে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। যে কোনও ভোটার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবর্তন করতে পারে সংশোধনের আবেদন করে। ফলে নির্বাচন কমিশন আইন মেনেই কাজ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *