সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৩ জুন: দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্দল প্রার্থী হওয়ায়
তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি ও গঙ্গাজলঘাঁটির বিদায়ী পঞ্চায়েত প্রধান চঞ্চল নায়েককে বহিষ্কার করলো তৃণমূল। গতকাল সন্ধ্যায় গঙ্গাজলঘাঁটির থানাগোড়ায় জয়প্রকাশ মজুমদারের পথসভায় এই ঘোষণা করেন গঙ্গাজলঘাঁটির তৃণমূল ব্লক সভাপতি হৃদয় মাধব দুবে।
তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে দলের একনিষ্ঠ কর্মী থেকে গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লকের একজন প্রতিষ্ঠিত যুব নেতা হয়ে উঠেছিলেন চঞ্চল। ২০০৮ সালে সিপিআই(এম)’র সাথে গঙ্গাজলঘাঁটির মত লাল দুর্গে ফাটল ধরিয়ে পঞ্চায়েতের দখল নিয়েছিলেন। দলও পঞ্চায়েত প্রধান করে পুরষ্কৃত করেছিল তাঁকে। ২০১৮ তেও তিনিই প্রধান হয়েছিলেন। তবে সেবার বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে ফের ঘরে ফেরার পুরস্কার হিসেবে। ২০১৮ তে দল বিরোধী কাজের জন্য তাকে টিকিট দেয়নি দল। ফের তাকেই দল বিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করল তৃণমূল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গঙ্গাজলঘাঁটি থানা গোড়ায় তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের নির্বাচনী পথসভা থেকে চঞ্চল নায়েককে বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করেন গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লক-১ এর সভাপতি হৃদয়মাধব দুবে। তিনি বলেন, দল এবার তাকে টিকিট দেয়নি। তাই তিনি সহ ৪ জন অনুগামী নিয়ে গঙ্গাজলঘাঁটি গ্রাম পঞ্চায়েতে নির্দল প্রার্থী হিসেবে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাই দলের শৃঙ্খলা মেনে চঞ্চল নায়েক, সোনালী বাউরি সহ ৪ জনকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
চঞ্চল নায়েককে ২০১৮- তেও নির্বাচনে তৃণমূল টিকিট দেয়নি। তাই তিনি ক্ষোভে বিজেপিতে যোগ দেন এবং বিজেপির টিকিটে লড়াই করেন। ওই নির্বাচনে উত্তর বাঁকুড়ার একমাত্র গঙ্গাজলঘাঁটি পঞ্চায়েতেই নির্বাচন হয়। তাতে ১৬টি আসনের মধ্যে ৯টি আসনে জয় পেয়ে বোর্ড গঠনের দাবিদার হয় বিজেপি। কিন্তু চঞ্চল নায়েক ৬ জন বিজেপির জয়ী সদস্যকে নিয়ে ফের তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রধান হন। এনিয়ে তিনি রাজনৈতিক মহলে কম সমালোচিত হননি।
চঞ্চলবাবু বলেন, আমি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার দিন থেকে লড়াই করছি। সিপিআইএমের লাল চোখের হুমকি উপেক্ষা করে তৃণমূলের দুর্দিনে দলকে পঞ্চায়েত উপহার দিয়েছিলাম। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে আমাকে অঞ্চল সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন দল সাংগঠনিক ভাবে ভীষণ দুর্বল ছিল। ২০১৯ এর লোকসভায় ৩ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে ছিল এই অঞ্চলে। ২০২১- এ ৪০০ ভোটে এগিয়ে যায় তৃণমূল। ১৩০০ বিজেপি কর্মী তৃণমূলে যোগ দেন। কিন্তু এবার আমাকে টিকিট দেয়নি, তাই আমার অনুগামীরা হতাশ। আমি বাধ্য হয়ে নির্দল হিসেবে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা ৪ টি আসনেই জিতব।
ব্লক তৃণমূল সভাপতি হৃদয়মাধব বলেন, এবার আমাদের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মত পঞ্চায়েত প্রার্থী বেছে নিয়েছেন মানুষই। তাকে উপেক্ষা করে চঞ্চল নায়ক দলের শৃঙ্খলা মানেননি। তাই তাকে বহিষ্কার করা হল।
এবিষয়ে বিজেপির মন্ডল সভাপতি ভাস্কর লাহা বলেন, ২০১৮-র নির্বাচনেও ওনাকে তৃণমূল তাড়িয়েছিল। আমরা ওকে টিকিট দিয়ে জিতিয়েছিলাম। কিন্তু গঙ্গাজলঘাঁটির মানুষের বিশ্বাসকে অপমান করে উনি তৃণমূলে ফিরে গিয়েছিলেন। বিশ্বাসঘাতকদের কোথাও স্থান নেই। তাই ওকে তৃণমূল প্রয়োজন শেষ হতেই ফের তাড়িয়েছে। এবার ২০ আসনের গঙ্গাজলঘাঁটি পঞ্চায়েত ফের বিজেপির দখলে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন ভাস্করবাবু।

