জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৭ জুন: পরিকল্পনাহীন জাতীয় সড়কের উড়ালপুল নির্মাণ। বিকল্প সড়ক তৈরী না করে, আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই বাজারে যানবাহন ঢোকানোর রাস্তা বন্ধ। আর তার জেরে চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ। বিপাকে পড়েছে বাস সহ অন্যান্য যানবাহন। রোজগার বন্ধের আতঙ্কে ব্যাবসায়ীরা। নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ নং জাতীয় সড়কের বুদবুদে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকমাস ধরে ১৯ নং জাতীয় সড়কের পানাগড় ধরলা মোড় থেকে ডানকুনি পর্যন্ত ছয় লেন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। কাজের গতি প্রকৃতিতে ক্ষুব্ধ বাস মালিক থেকে বাস কর্মীরা। অভিযোগ, পরিকল্পনাহীন ভাবে নির্মিয়মান উড়ালপুল, আন্ডারপাস এলাকায় সংকীর্ণ সার্ভিস লেন করা হয়েছে। তার ওপর ওইসব অস্থায়ী সার্ভিস লেনগুলি মজুবত না হওয়ায় মাঝে মধ্যে বসে যাচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা যেমন রয়েছে। তেমনই যানজটে নাজেহাল।

বাসমালিক সমিতির অভিযোগ, যানজটের কারণে বাস নির্দিষ্ট সময়ে যেতে পারছে না। ব্যাবসা মার খাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।”
শুক্রবার থেকে বুদবুদ বাজার ও বাইপাসের সাধুনগর সংযোগস্থলের মুখে সিমেন্টের ডিভাইডার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে আসানসোল দুর্গাপুর থেকে বর্ধমানগামী বাস বুদবুদ বাজারে ঢোকা বন্ধ হয়ে পড়েছে। আর তার ফলে বিপাকে যেমন যাত্রী বাস ও বুদবুদগামী যানবাহন। তেমনই চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ। কোনো বাস বুদবুদ মানকর রোড ওভারব্রিজের ওপর যাত্রি নামাচ্ছে। আবার কোনো বাস বুদবুদ ছাড়িয়ে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে যাত্রী নামাচ্ছে। আচমকা যানবাহনহীন অবস্থায় বিভ্রান্তিতে পড়ছে যাত্রীরা। বুদবুদ বাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রতন সাহা জানান, “নির্মাণকারী সংস্থা কিম্বা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা করেনি। কোনোরকম নোটিশ ছাড়া বাস ঢোকার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। বিকল্প কোন ব্যাবস্থা না করেই এধরনের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া অন্যায়। বিকল্প বাইপাসের সার্ভিস লেন তৈরী করে রাস্তা বন্ধ করা উচিত ছিল। তাহলে সাধারন মানুষকে হয়রানি ও দুর্ভোগে পড়তে হত না। বিষয়টি আমরা প্রশাসন ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকের কাছে জানাবো।”

বুদবুদ গ্রাম পঞ্চাায়েতের উপপ্রধান রুদ্রপ্রসাদ কুন্ড জানান, “রাস্তা বন্ধের বিষয়ে পঞ্চাায়েতকে কোনোরকম জানানো হয়নি। বিষয়টি দেখছি।”
গলসী-১ নং বিডিও দেবলিনা দাস জানান, “আগাম কোনো নোটিশ দেয়নি। আচমকা রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে শুনলাম। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি।”
উল্লেখ্য, বুদবুদ বাইপাসের ওই সংযোগস্থলে উড়ালপুল তৈরীতে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে। বুদবুদ বাইপাস রয়েছে। ওই রাস্তার পাশে সার্ভিস লেন তৈরী হলে বাজারে বাস সহ অন্যান্য যানবাহন ঢোকার কোনো সমস্যা হবে না। প্রশ্ন, বিকল্প ব্যাবস্থা না করে, কোনরকম নোটিশ ছাড়া আচমকা কেন রাস্তা বন্ধ করল?
যদিও এবিষয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও নির্মানকারী সংস্থা কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।

