বনগাঁয় পাঁচটা ওয়ার্ডে ভোট লুটের আশঙ্কা বিরোধী দলগুলির

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৬ ফেব্রুয়ারি: ৩, ৪, ৭, ১৩ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট লুটের আশঙ্কার অভিযোগ বিরোধীদের। বনগাঁ পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের সমর্থনে দাঁড়িয়েছেন গোপাল শেঠ, বিজেপির মধুসূদন মণ্ডল, এই ওয়ার্ডে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ কংগ্রেসের সমর্থনে দাঁড়িয়েছেন বনগাঁর প্রাক্তন চেয়ারম্যান শংকর আঢ্যের ভাই কংগ্রেস প্রার্থী মলয় আঢ্য। গোপাল শেঠের অভিযোগ, মলয় আঢ্য বাইরে থেকে দুষ্কৃতীদের এনে ভোট লুট করার পরিকল্পনা করেছে। পুলিশকে জানিয়েছি, জীবন থাকতে ভোট লুট করতে দেব না। মানুষের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্তা আছে। তাই জেতা নিয়ে আমি ভয় পাই না। মানুষকে ভোট দিতে দিলে জয় আমার, জয় তৃণমূলের।

অন্যদিকে, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের সমর্থনে দাঁড়িয়েছেন শংকর আঢ্যের স্ত্রী জ্যোৎস্না আঢ্য, বিজেপি সমর্থিত পার্বতী দত্ত। এদিন জ্যোস্না আঢ্য অভিযোগ করেন, তৃণমূলের নেতারাই আমাকে হারানোর চেষ্টা করছে। বিজেপিকে মদত দিয়ে ভোট লুট করার পরিকল্পনা করছে।

এব্যাপারে তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস জানান, ‘১৫ দিন আগে থেকেই আমরা বুঝতে পারছি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিরোধী প্রার্থীর জামানত জব্দ হবে। আর সেই কারণে তারা শান্ত এলাকাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। কোনওরকম হামলা বা হেনস্থার ঘটনা ঘটেনি। পুলিশকে অনুরোধ করেছি, ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করার জন্য, যাতে একসঙ্গে ৩–৪ জন জড়ো হয়ে কোনওরকম গোলমাল ঘটাতে না পারে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের সমর্থিত প্রার্থী কার্ত্তিক মণ্ডল, বিজেপির সমর্থনে দেববাস মণ্ডল। দেবদাস মণ্ডলের অভিযোগ, কার্ত্তিকবাবু প্রভাবশালী ব্যক্তি, ইতিমধ্যেই বহিরাগতদের এলাকায় ঢুকিয়ে সন্ত্রাসের সৃষ্টি করছে। পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশের উপর আস্থা আছে। ভোট লুট করতে দেবে না ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ।

১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ত্রিমুখী লড়াই। তৃণমূল প্রার্থী মৌসুমী চক্রবর্তী, বিজেপির সমর্থনে ঝুমা ভট্টাচার্য, সিপিআইএমের প্রার্থী দিশারী মুখার্জি। বিজেপি প্রার্থী ঝুমা ভট্টাচার্যের অভিযোগ, গতবারের পুর নির্বাচনে এই ওয়ার্ডের সবকটি বুথে ভোট লুট হয়েছিল। মানুষের উপর ভরসা ছিল না তৃণমূলের। এবারেও নেই। আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মানুষ ভোট দিতে পারলে জয় নিয়ে আমি আশাবাদী।’ একসময় ওয়ার্ডটি বামেদের দখলে ছিল। পরে পরিস্থিতির বদল ঘটে। এলাকার বামপন্থীরা মনে করছেন, এখানকার বিদায়ী কাউন্সিলরের ভূমিকায় মানুষ সেভাবে সন্তুষ্ট নন। তাই এলাকার মানুষ ফের বামেদের ফেরাতে চাইছেন। এই ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন মৌসুমী চক্রবর্তী। আর রয়েছেন বিজেপির ঝুমা ভট্টাচার্য। ওয়ার্ডের একদিকে রয়েছে গরিব অঞ্চল, অন্যদিকে আমলাপাড়া, রেটপাড়ায় শিক্ষিত, চাকরিজীবী ভোটারদের বসবাস। এই ওয়ার্ডের ৪ টি বুথ মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের কাছাকাছি। গত পুর নির্বাচনে তাঁদের অনেকেই নিজের ভোট নিজে দিতে পারেননি। ফলে তাঁদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। তাঁরা এবারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন বলে মনে করেন ঝুমাদেবী। যদিও তাঁরা নিজের ভোট নিজে দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তাঁদের এবারেও আশঙ্কা রয়েছে।

বিজেপি নেতা কানাই ভট্টাচার্য বলেন, শুক্রবার রাতে প্রায় ২৫ জনের একটি দল ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ক্লাবের মাঠে ছিল। দুষ্কৃতীদের সেখানে আশ্রয় দেওয়া হয়। সেখানে মদ মাংস খাওয়ানো হয় তাদের। সকলের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। বার বার পুলিশকে ফোন করলে পুলিশ ফোন তোলেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *