স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া ১১ জুলাই: নদিয়ার হাঁসখালিতে কিশোরীকে গণধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার ঘটনার তদন্তে সিবিআই মূল অভিযুক্ত চারজন ছাড়াও মোট নয়জনের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে চার্জশিট পেশ করেছে। এরপরই সোমবার রানাঘাট আদালতে বিচারকের সামনে অভিযুক্তদের তোলা হয়।
অভিযুক্তদের উকিল রাজা ব্যানার্জির দাবি,’ধর্ষিতা মহিলা যে অভিযোগ করেছিল সেই অভিযোগে পরিমল বিশ্বাস ও অশোক বিশ্বাসের নাম ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সিবিআই এদের চার্জশিট থেকে নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। যেহেতু চার্জশিট থেকে এদের নাম বাদ গেছে সেহেতু আদালত আজ বাদীকে ডেকে পাঠিয়েছিল তার বক্তব্য শোনার জন্য। সেখানে বাদী আদালতের কাছে জানায় তিনি অশোক বিশ্বাস ও পরিমল বিশ্বাসের নামে কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।

চার্জশিটে সিবিআই আবার তদন্তের জন্য জানিয়েছে, যদি সন্দেহজনক ভাবে কাউকে পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে ১৬ তারিখে ডেট পড়েছে। আমরা চার্জসিট থেকে যা পেলাম তাতে আমার ডিফেন্স লইয়ার হিসাবে মনে হচ্ছে সঠিকভাবে তদন্ত হয়নি। সেই জন্য আমরা কোর্টের কাছে আবেদন করেছি অন্য কোনো সিবিআই অফিসারদের দিয়ে আবার তদন্ত করানো হোক। সঠিক যে তথ্য তার সিবিআই সারপ্রেস করেছে বলে আমার মনে হচ্ছে। আমরা আজ জামিনের জন্য আবেদন করেছিলাম। আদালত জামিন মঞ্জুর করেনি।
অরুণাংশু বাগচী বলে, একজনের নাম ছিল তাকে পুলিশ এতদিন গ্রেফতার করেনি। এছাড়াও চার্জসিট দেওয়ার আগে পর্যন্ত কোনোরকম পুলিশ ওয়ারেন্টের প্রেয়ারও করেনি। চার্জশিট দেওয়ার পর কোর্টে আজ তাকে ফরওয়ার্ড করেছে’।
প্রসঙ্গত হাঁসখালিতে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। অভিযোগ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। উল্টে একটি বাঁশের মধ্যে বেঁধে স্থানীয় শ্মশানে নিয়ে গিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল মেয়েটির দেহ। ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে যে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছিল শেষ স্থানীয় তৃণমূল নেতা সমরেন্দু গোয়ালীর ছেলে ব্রজ গোপাল গোয়ালি। ভজ গোপাল ও তার চার বন্ধু মিলে মেয়েটির উপর পাশবিক নির্যাতন করে। এপ্রিল মাসে কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআইকে তদন্তভার দিয়েছিল। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে চার্জশিট জমা করে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।

