আমাদের ভারত, ২৪ জুলাই: রাজস্থান, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে নারী নিগ্রহের অভিযোগ তুলে সংসদ চত্বরে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আজ বিক্ষোভ দেখালেন বঙ্গ বিজেপির সাংসদরা। ফলে অধিবেশন শুরুর আগেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ চত্বর। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, বিরোধীরা মণিপুর দেখতে পান, কিন্তু মালদা দেখতে পান না।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মালদা সহ একাধিক ঘটনাকে তুলে রাজ্য সরকারকে এক হাত নেন সুকান্ত। রাজ্যের অভ্যন্তরে ঘটা নারী নিগ্রহের ঘটনা তৃণমূল সরকার দেখতে পান না বলে কটাক্ষ করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি জানান, মালদা, কোচবিহার, বীরভূম সহ একাধিক জেলায় যে নারী নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে তা সংসদের অভ্যন্তরে তুলবেন বঙ্গ বিজেপির সাংসদরা।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক মহিলাদের উপর অত্যাচার হয়েই চলেছে। ইতিমধ্যেই হয়তো সবাই ভাইরাল ভিডিও পেয়ে গেছেন, যেখানে মালদায় দুই মহিলাকে নগ্ন করে ঘোরানো হয়েছে। অন্যদিকে
জানাগেছে, কোচবিহারে একটি ১৪ বছরের নাবালিকারকে গণধর্ষণ করেছে চারজন দুষ্কৃতী। ওই মেয়েটি এখন হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।
সুকান্ত বলেন, “গোটা বাংলাজুড়ে মহিলাদের উপর একের পর এক অত্যাচারের ঘটনা ঘটে চলেছে, তার বিরুদ্ধেই গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আমাদের ধর্না। কারণ আমাদের বিরোধীরা মণিপুর দেখতে পাচ্ছেন, কিন্তু ১৪ তলার ওপর থেকে মালদা দেখতে পাচ্ছেন না। বা কয়েকদিন আগে কোচবিহারে ১৪ বছর দু’মাস বয়সের এক নাবালিকা মেয়েকে দেখতে পাচ্ছেন না।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দ্যেশ্যে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে বলছি কোচবিহারের মিশন হাসপাতালে গিয়ে দেখে আসুন মেয়েটি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। চারজন দুষ্কৃতি তাকে লাগাতার ধর্ষণ করেছে এবং তার ফলে সে এখন মৃত্যুর শয্যায়। কিন্তু সেই কোচবিহার আমাদের বিরোধীদের চোখে পড়ে না, কিন্তু মণিপুর চোখে পড়ে।”
তিনি জানান, তাদের আন্দোলন চলছে কারণ, বাংলার মানুষকে রক্ষা করতে হবে বাংলার মেয়েদের রক্ষা করতে হবে অত্যাচারী শাসকের হাত থেকে। তিনি আরো জানান, “সংসদের ভেতরে মালদা থেকে শুরু করে হাওড়া দক্ষিণের পাঁচলায় বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে যে অসভ্য আচরণ হয়েছে, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, বীরভূম, উত্তর দিনাজপুরের ঘটনার বিরুদ্ধে বিজেপি সাংসদরা লোকসভায় বিরোধীতা করবেন।”

