বিশেষ প্রতিনিধি, আমাদের ভারত, ৩ নভেম্বর: ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের পর তিনি দাবি জানিয়েছিলেন যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংস্কার আনা হয়। ইভিএমে কারচুপি করছে বিজেপি, এমন অভিযোগই করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা নির্বাচনের পরই ইভিএম-বিরোধ নিয়ে বিরোধীদের একজোটও করেছিলেন তিনি। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে একধাক্কায় রাজ্যে অনেকগুলি আসন বেড়েছিল বিজেপির। ১৮টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। গত বিধানসভা নির্বাচনের মাঝপথেও তিনি ইভিএম নিয়ে সরব হয়েছিলেন। অভিযোগ তুলেছিলেন কারচুপির। প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন ভোটের পর্ব চুকলে তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন। আইনজীবীদের সঙ্গে কথাও হয়েছে। কিন্তু ভোটে জেতার পর একদম চুপ হয়ে যান। তাঁর দাবি ছিল, ৯৮ শতাংশ ইভিএম খতিয়ে দেখা হয় না। আমেরিকার উদাহরণ টেনে তিনি বলেছিলেন, বিশ্বের একাধিক দেশই ইভিএমে আস্থা রাখে না।
এখন প্রশ্ন উঠেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই মত নিয়ে। পুরভোট যেহেতু রাজ্যের হাতে, তাই সেই ভোট ব্যালট পেপারে হবে বলেই প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু সব ঠিক থাকলে পুরভোট ইভিএমে হবে। এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘মমতার রাজনৈতিক ইতিহাসে বার বার তাঁকে মত পাল্টাতে দেখা গিয়েছে। নিজের সুবিধা অনুযায়ী মত পাল্টান তিনি।’
জয়প্রকাশবাবুর কথায়, আজ ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে তৃণমূল, যা সুস্থ গণতন্ত্রে হওয়ার কথা নয়। তাঁর দাবি, এই ফলাফল দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে হয়েছে, ‘ইভিএমে রিগিং করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজ্য কমিশন আসলে ঠুঁটো জগন্নাথ, রাজ্য সরকারই সবটা পরিচালনা করে।’
অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বিজেপির অবস্থা হল নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা।’ তৃণমূল নেতার কথায়, ‘বিধানসভা ভোটে কমিশন, বাহিনী সবই ওদের। কখনও ওরা বলছে বিএসএফ আমাদের। আর আজ যখন নির্বাচনে ভরাডুবি তখন তার থেকে নজর ঘোরানোর জন্য কথার ভোজবাজি আর কতদিন চলবে? বিজেপির জামানত জব্দ হয়েছে। সেটা সামলাতে না পেরেই এ সব অবান্তর কথা বলছে বিজেপি।’
ভবানীপুরের উপনির্বাচনের ফলাফলের পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, রাজ্যের বাকি চার কেন্দ্রে উপনির্বাচন শেষ হলেই পুরভোট সম্পূর্ণ করে ফেলতে চায় রাজ্য সরকার। তার পর একই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিমও। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকলে শিঘ্রই কলকাতার পুরভোট হবে বলে আভাস দেন কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ও পরিবহণ মন্ত্রী। এবার শুরু হয়েছে সেই প্রস্তুতি।

