দুর্গাপুরে পাচারের আগে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার আফিম ও পোস্তর খোল আটক, ধৃত পাচারকারী

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৩ সেপ্টম্বর: পাচারের আগে আফিম ও পোস্তোর খোল সহ পুলিশের জালে ধরা পড়ল পাচারকারী। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘেটেছে দুর্গাপুর ডিটিপিএস ফাঁড়ির রিভারসাইড এলাকায়। উদ্ধার হয়েছে ১ কেজি আফিম ও প্রায় দেড় কুইন্টাল পোস্তর খোল।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ধৃতের নাম অজয় চৌধুরী। দুর্গাপুর ডিটিপিএস এলাকার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১ কেজি আফিম ও বেশ কিছু পোস্তর খোল।

ঘটনায় জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ডিটিপিএস রিভারসাইড এলাকায় হানা দেয় দুর্গাপুর থানা ও আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ।

তখনই অজয় চৌধুরীকে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে পুলিশ আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় কথাবার্তায় অসঙ্গতি মেলায় পুলিশ তাকে তল্লাশি করে। আর তল্লাশিতে একটি ছোট গাড়িতে প্রায় দেড় কুইন্টাল পোস্তর খোল ও প্রায় ১ কেজি আফিম উদ্ধার হয়। যার সব মিলিয়ে বাজার মূল্য ১০ লক্ষ টাকা। পুলিশ তারপরই অজয় চৌধুরীকে গ্রেফতার করে।

প্রসঙ্গত, বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান দুই জেলার সীমানা দামোদর নদের উপকূলবর্তী চরে বালি মাটির উর্বরতায় চাষাবাদের অন্যতম ভূমি। আর তাতেই গড়ে উঠেছে একাধিক মানাচর। নদীর চরে চলছে আলু, পেঁয়াজ, বেগুন, মূলো, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি সহ একাধিক সবজি চাষ। আর ওই চাষাবাদ দেখে নদীর চরে জবর দখল বাড়ছে। সম্প্রতি একশ্রেণির জমি মাফিয়া ওইসব জমি কব্জা করতে ময়দানে নেমেছে। কোথাও বিকোচ্ছে চড়া দামে। আবার কোথাও পোস্ত চাষে ঝোঁক বাড়ছে। দামোদরের মাঝে বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের অধীনে বেশ কয়েকটি চর তৈরী হয়েছে। গত কয়েকবছর ধরে চরের আয়তনও বেড়েছে। ওইসব চর জমি মাফিয়াদের জবরদখলের কব্জায়। গত কয়েকবছর ধরে নির্জন ওইসব চরে পোস্ত চাষ শুরু হয়েছে। দুর্গাপুর লাগোয়া হলেও ভৌগলিক মানচিত্র নদীর চর বাঁকুড়া জেলার আওতায়। ওইসব চরে যাওয়ার উপায় নৌকা। এছাড়াও মেজিয়া ব্লকের জপমালি, জংপুর, সারামা, বিহারি মানা, শ্রীরামপুর মানা সহ বেশ কিছু নদীর চরে অবাধে পোস্ত চাষ শুরু হয়। মাদক তৈরী হওয়ায় সরকারি অনুমতি ছাড়া পোস্ত চাষের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আবগারি দফতর সুত্রে জানা গেছে, এনডপিএস অ্যাক্ট -১৮ মোতাবেক পোস্ত চাষ বে- আইনী। ধরা পড়লে ১০-২০ বছরের জেল ও আদালতের নির্দেশ অনুসারে জরিমানা হতে পারে। যদিও এরাজ্যে অনুমোদিত পোস্ত চাষের ক্ষেত্র নেই। প্রশ্ন, তারপরও কিভাবে সরকারি জমি দখল করে হয় পোস্ত চাষ?

যদিও গত বছর পোস্ত চাষের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। ড্রোন দিয়ে মেজিয়া ব্লক এলাকায় দামোদর নদে চর এরিয়াল সার্ভে করে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন ও আবগারি দফতর। তারপর একের পর পোস্ত চাষ ভেঙে তছনচ করে দেয় আবগারি দফতর। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৭০০ বিঘা জমির পোস্ত গাছ নষ্ট করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও দামোদর তীরবর্তী বেশ কিছু এলাকায় পোস্ত চাষ হয়েছিল। এদিনের পোস্ত খোল আফিম উদ্ধারে সেটাই প্রমাণ করে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে আদালতে তোলা হয়েছে। কোথায় এগুলি পাচার করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *