আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ৫ ডিসেম্বর:
দলের প্রতি যারা দায়বদ্ধ তারাই আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিট পাবেন। পুরনোদের গুরুত্ব দেওয়া হবে। তা বলে নতুনরা যে বাদ যাবে এমনটা নয়। এমনটাই বলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
রবিবার আলিপুরদুয়ারে গ্রাম পঞ্চায়েত ভোটের প্রস্তুতি বৈঠক সেরে কলকাতা ফেরার পথে বাগডোগরায় সুকান্ত বলেন, যারা পুরনো তাঁরা গুরুত্ব পাবেন। তবে নতুনদের কথাও ভাবা হবে। দলের প্রতি যারা দায়বদ্ধ তাদেরকেই সুযোগ দেওয়া হবে। সুকান্ত আরও দাবী করেছেন, তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য থেকে গ্রাম প্রধানদের অনেকেই বিজেপিতে আসার জন্য যোগাযোগ করছেন তাদের সাথে। তবে সেক্ষেত্রে সবটা দেখে শুনেই তাদের বিজেপিতে যোগদান করানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সুকান্ত দাবি করেছেন, পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল মস্তানি দেখালে জনগণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সেটা প্রতিরোধ করবে। একই সঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন, বিজেপিও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। বলা বাহুল্য দিন কয়েক আগেই তিনি “ভয়ংকর খেলা হবে” স্লোগান দিয়েছিলেন। সুকান্ত বলেছিলেন, “আমরা তো চুরি পরে নেই তাই আটকানো সহজ হবে না।”
শুভেন্দু অধিকারীর ডায়মন্ড হারবারের সভায় যাওয়ার পথে দলের কর্মীদের উপর আক্রমণের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপি সভাপতি অভিযোগ, অগণতান্ত্রিকভাবে তৃণমূলের হার্মাদরা আক্রমণ করেছিল। তৃণমূলের ইশারায় পুলিশ ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকলেও কিছুই করেনি। সুকান্ত জানান, বিরোধী দলনেতা রাজ্যপালের কাছে এই বিষয়টি তুলে ধরবেন, তাঁকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করবেন, যাতে গোটা দেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট হয় পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই।
পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরে বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডে এন আই এ তদন্তের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে বিজেপি। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, “রাজ্যের মানুষ বুঝতে পারছে। শাক দিয়ে মাছ কি ঢাকা যায়?”
উত্তরবঙ্গের উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেছেন দলের বিভীষণ রয়েছে। এই প্রসঙ্গে সুকান্তের বক্তব্য, “উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিজে অন্য দল থেকে তৃণমূলে এসেছেন, তিনি যদি তৃণমূল লোকেদের বিচার করেন কে বিভীষণ? কে লক্ষণ?আর কে রাবণ? তাহলে দেখতে বলুন, এটুকু মেনে নিচ্ছেন যে বিভীষণ যখন ওদের দলে রয়েছে রাবণ নিশ্চয়ই উনি কিম্বা অন্য কেউ হবেন। রাবণ কে সেটা যেন বলে দেন, আর রাবণ যদি হন রামের হাতে বধ তো হবেনই।”

