লটারি, গরু, কয়লা ঘেঁটে যে ককটেল তৈরি হয়েছে তার স্বাদ তৃণমূলের নেতারাই বলতে পারবে, চুড়ান্ত কটাক্ষ সুকান্তর

আমাদের ভারত,‌ ১৮ নভেম্বর: দুর্নীতির ইস্যুতে গত কয়েক মাস ধরে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় চলছে। কয়লা পাচার, গরু পাচার, নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে রাজ্যের শাসকদলের তাবড় নেতা মন্ত্রীদের। নাম রয়েছে একাধিক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদেরও। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে আবারও এই ইস্যুতে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন সুকান্ত মজুমদার। তদন্তকারীদের অনুমান দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করতে অভিযুক্তরা লটারির অছিলা নিয়েছেন। তাই এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, বাংলায় লটারি, গরু, কয়লা ঘেঁটে যে ককটেল তৈরি হয়েছে তার স্বাদ তৃণমূলের নেতারাই বলতে পারবে।

অনুব্রত মণ্ডলের সম্পত্তি হিসেব খোঁজ করতে গেলে তদন্তকারি আধিকারিকদের বলা হয়েছে কেষ্ট ও তার মেয়ের অ্যাকাউন্টের বিপুল পরিমাণ অর্থ এসেছে লটারি জিতে। আর এই লটারি জেতাকে কালো টাকা সাদা করার পথ হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা। গরু পাচার, কয়লা পাচার কাণ্ডে রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালীর নাম জড়িয়ে রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বাংলায় লটারি, গরু কয়লা ঘেঁটে ঘ হয়ে গেছে। এই সবকটা মিলে এমন একটা ককটেল তৈরি হয়েছে যে তার স্বাদ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাই বলতে পারবে। সাধারণ মানুষ এই সব দেখে কনফিউজ।” তিনি আরও বলেন, “আমার তো মনে হয়, তদন্তকারী সংস্থারাও এই জিলাপির প্যাচ দেখে অবাক হচ্ছেন। তবে প্রত্যেকটি ইন্টারলিঙ্কড এবং এই টাকা কোথায় কোথায় গেছে খুঁজে বের করা উচিত ইডির। আমার বিশ্বাস এক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ স্তরের নেতা পর্যন্ত তারা পৌঁছে যাবেন।”

শর্ত সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ করেছেন। এই ঘটনা নজরবিহীন। এই বিষয়ে সুকান্ত মজুমদারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “নজিরবিহীন ঘটনা তো পশ্চিমবঙ্গে বারবার ঘটে চলেছে। পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি ক্যামেরার সামনে বসে, আমরা কোনওদিন এভাবে দেখিনি। এই রকম নজিরবিহীন ঘটনা ঘটলে তো নজিরবিহীন পদক্ষেপ করতেই হয়। সেই কারণে কেন্দ্র সরকার শর্তসাপেক্ষে সমস্ত টাকা স্যাংশন করেছে যাতে কেউ চুরি করতে না পারে।”

তিনি বলেন, প্রতি গ্রামে গিয়ে যদি তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বাড়ি দেখেন তাহলে বোঝা যাবে কি বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি তারা হস্তগত করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসও এটা অস্বীকার করছে না। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং বলেছেন, বেশি লোভ করবেন না।”

কিছু দিন আগে তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের দাড়ি গোঁফ উপড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল তিনি নিজের কথা ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এই বিষয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, শব্দকে পরম ব্রহ্ম বলা হয়। একবার বলা হয়ে গেলে সেটা ফেরানো যায় না। উদয়নবাবুর দাঁড়ি গোঁফ উপড়ানোর ইচ্ছে হলে সেলুন খুলে বসুন। সেখানে নিশীথ প্রামাণিক না গেলে আমি যাব দাঁড়ি গোঁফ কাটতে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *