এক বছর পূর্ণ হল নবম- দ্বাদশের মেধা তালিকাভুক্ত হয়েও চাকরি থেকে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের আন্দোলন

আমাদের ভারত, ১৫ মার্চ:
২০১৯- ২০২২ পর্যন্ত তিন পর্যায় ৩৬৫ দিন অর্থাৎ ১ বছর পূর্ণ হলো নবম- দশম এবং একাদশ- দ্বাদশ এই দুটি স্তরের মেধাতালিকা ভুক্ত অথচ চাকরিতে নিয়োগপত্র না পাওয়া হবু শিক্ষক- শিক্ষিকা পদপ্রার্থীদের আন্দোলন। প্রথম পর্যায়ে ২০১৯-এ কলকাতার প্রেসক্লাবের সামনে ২৯ দিনের অনশন। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২১ জানুয়ারি মাস থেকে সেন্ট্রাল পার্কের পাঁচ নম্বর গেটের সামনে ১৮৭ দিনের অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন। তৃতীয় পর্যায়ে ২০২১-এর ৮ অক্টোবর থেকে ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ১৪৯ দিন ব্যাপী শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ণা এখনও চলছে।

২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন নবম- দশম এবং একাদশ- দ্বাদশ এই দুটি স্তরের শিক্ষক- শিক্ষিকা নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নিয়েছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ নিয়োগের জন্য যে কলকাতা গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল, তার একেবারে প্রথম থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলিকে সুকৌশলে লঙ্ঘন করে গেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। চাকরি প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর ভিত্তিক মেধাতালিকা প্রকাশের কথা নিয়মে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও প্রকাশিত মেধাতালিকায় চাকরি প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর উল্লেখ করা হয়নি। ১:১.৪ অনুপাতে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও লঙ্ঘন করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। সাধারণ মেধাতালিকা প্রকাশের পরেও রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, গণিত একাধিক বিষয়ে পুনরায় নতুন প্রার্থীদের নাম অবৈধভাবে সংযোজন করে দেওয়া হয়েছে। আপডেট সিটে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও মান্যতা দেয়নি স্কুল সার্ভিস কমিশন। মেধাতালিকা ভুক্ত সামনের দিকে থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ না করে অনেক পিছনের দিকের প্রার্থীদের র্যাঙ্ক ড্রপ করে চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছে।

তাদের আরও অভিযোগ, মেধাতালিকায় নাম না থাকা বহু প্রার্থীকে অবৈধভাবে চাকরিতে নিয়োগ করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন। প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি পেলেও শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত এই শিক্ষক পদপ্রার্থীগণ বলে জানিয়েছেন বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের অভিভাবকরা।

২০১৯ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রেসক্লাবের সামনে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের মঞ্চে গিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে মেধাতালিকা ভুক্ত কোনো প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হবে না। প্রয়োজনে আইনের কিছু পরিবর্তন করে হলেও তাদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। আবার ২০২১ সালের ১০ আগস্ট বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শুভশঙ্কর সরকার সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বার্তা দিয়েছিলেন যে মেধাতালিকাভুক্ত অথচ বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের বিষয়টি ইতিবাচক দিক থেকে বিবেচনা করা হবে। সেই সমস্যা সমাধানের জন্য চল্লিশ দিন সময় নেওয়া হলেও কাজ হয়নি।

ফলে ২০২১ সালের ৮ অক্টোবর থেকে আবার ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ণা চালিয়ে যাচ্ছেন বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীরা। সরাসরি গান্ধী মূর্তির পাদদেশের ধর্ণা মঞ্চে এসে ধর্ণারত বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাম যুব সংগঠন ডি ওয়াই এফ আই-এর রাজ্য সভানেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি, বিপ্লবী যুব অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক রনজয় সেনগুপ্ত, কার্যকরী সভাপতি সজল কুমার দে, কৃষক আন্দোলনের প্রদীপ সিং ঠাকুর , কার্তিক পাল সহ বেশকিছু নেতৃত্ব।

এছাড়াও মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গীতা মুখার্জির নেতৃত্বে একটি টিম, মহিলা কবি মন্দাকান্তা সেন , কয়েকটি শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্বগণ , সোস্যাল ওয়ার্কার্স জয়দেব দাস, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মহম্মদ নৌসাদ সিদ্দিকী, বিহারের যুব বিপ্লবী অ্যাসোসিয়েশনের বিধায়ক মনোজ মঞ্জিল, কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য।

যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের সভাপতি মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন যে ২০১৯ সালে দেওয়া মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অতি দ্রুত কার্যকর করতে হবে। যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের স্টেট কো- অর্ডিনেটর সুদীপ মন্ডল জানিয়েছেন যে, তারা রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের সমস্যা সমাধানের জন্য। তিনি জানিয়েছেন যে মেধাতালিকা ভুক্ত অথচ বঞ্চিত সকল শিক্ষক- শিক্ষিকা পদপ্রার্থীদের অবিলম্বে চাকরিতে নিয়োগ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *