আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১২ ডিসেম্বর: ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বীজপুরের পর এবার খড়দহ থানার সোদপুরে চুরি। এবার চুরি এক প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকানে। নগদ সহ প্রায় দেড় লক্ষ টাকার জিনিস চুরি হয়েছে। খড়দহ থানা এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই চুরির খবর সামনে আসছে, কিন্তু পুলিশ তাতে রাশ টানতে ব্যর্থ। চুরির মাল তো দূরের কথা কোনও সন্দেহভাজনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি।
শনিবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ চুরির ঘটনা ঘটল পানিহাটির সোদপুরে বিটি রোডের ধারে এক প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকানে। দোকানের সাটার ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে দুষ্কৃতীরা লুটপাট চালায় এবং দোকানের সিসিটিভি সহ মেশিনপত্র নিয়ে চম্পট দেয়। আনুমানিক দেড় লক্ষ টাকার জিনিস দুষ্কৃতিরা চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অনুমান দোকান মালিকের। গতকাল রাতে সোদপুর ট্রাফিক মোড়ের মত জনবহুল জায়গায় গভীররাতে শিবানী সুইটস নামে একটি প্রসিদ্ধ মিস্টির দোকানে হানা দেয় চোরের দল।
সূত্রের খবর, অনুযায়ী প্রথমে সমবায়ের মিটার বক্সের বিদুৎ বিচ্ছিন্ন করে দুষ্কৃতীরা। এরপর দোকানের ছাদের লোহার দরজা ভেঙ্গে নীচে দোকানে প্রবেশ করে। দুটি দোকানের জিনিসপত্র তছনছ করে। নগদ লক্ষাধিক টাকা, দুটি মোবাইল খোয়া গেছে। দোকানের সিসিটিভিগুলির লেন্সে স্টিকার মেরে রেকর্ডার মেশিনটি নিয়ে চলে যায়। এরপর খড়দহ থানার পুলিশ এসে ঘটনাস্থলের পাশেই একটি পুকুর থেকে রেকর্ডারটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ কমিশনারেটর খড়দহ, রহড়া, বীজপুর এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিন্তাইয়ের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মধ্যমগ্রামে প্রশাসনিক মিটিংয়ে বীজপুরের চুরির ঘটনা নিয়ে পুলিশকে সতর্ক করেন। তার জেরে রাতারাতি বদলি হন থানার আইসি সহ ৪ জন সাব ইনস্পক্টর। তারপরেও নজরদারির গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের এহেন গা ছাড়া ভাব দেখে বাসিন্দাদের বক্তব্য, পুলিশ যদি সামান্য চুরি ঠেকাতে না পারে বা অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে বা ঘটনার কিনারা করতে না পারে তাহলে সাধারণ মানুষ কার দ্বারস্থ হবেন।
শিবানী সুইটস দোকানের কর্ণধার কমল দাস জানান, “বিভিন্ন জায়গায় চুরির ঘটনা শুনেছি। কিন্তু আমার এই সুরক্ষিত দোকানে এভাবে চুরি হবে সেটা ভাবতে পারছি না। আমরা আজ ভোরে দোকান খুলে দেখছি আমাদের দুটো দোকানে জিনিস লণ্ডভণ্ড হয়ে রয়েছে। আমার বিদ্যুতের মিটার, বাজারের সমবায়ের সবার মিটার একসাথে ছিল। এখান থেকে বেছে বেছে আমার মিটারগুলির বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয। তারপর তারা দোকানের ওপরের দরজা ভেঙ্গে দোকানে প্রবেশ করে এবং তাণ্ডব চালায়। আমাদের দুটো দোকান মিলিয়ে কয়েক লাখ টাকার চুরি হয়।”
এই ঘটনায় দোকানের আশেপাশের সমস্ত দোকানদাররা আতঙ্কিত রয়েছেন। বিটি রোডের পাশে এরকম জনবহুল জায়গায় চুরির ঘটনায় সবাই হতবাক। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারের খড়দহ থানার অন্তর্গত এলাকায় দিনের পর দিন চুরির ঘটনায় এলাকার ব্যবসায়ীরা যেমন আতঙ্কিত, একের পর এক চুরির ঘটনায় খড়দা থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

